শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৬

সভাপতিরা নিশ্চিত, সম্পাদক কারা

একই মঞ্চে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কাল

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা

সভাপতিরা নিশ্চিত, সম্পাদক কারা

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর খুলনা আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ হয়। খুলনা-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন নগর আওয়ামী লীগের দাপুটে সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। দুদকের মামলাসহ নানা অভিযোগে মিজান ও তার অনুসারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।  একইভাবে ২০১৮ সালে জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা রাজনীতিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এরপর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দ্ব›েদ্ব ক্ষোভে-অভিমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েও দলের এই সাংগঠনিক দুর্দশা কাটানো যায়নি। জানা যায়, এসব কারণে খুলনা আওয়ামী লীগের সম্মেলন এবার নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রায় ৫ বছর পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে প্রথমবারের মতো একই মঞ্চে নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে ঘিরে এরই মধ্যে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। জানা যায়, ১৪ বছর ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের বাইরে কাউকে ভাবছে না তৃণমূল। আর ১৯৯২ সাল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা শেখ হারুনুর রশীদ এবারও সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী। তবে মহানগর সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, সদর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও জেলা সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সুজিত অধিকারী, যুগ্ম-সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামরুজ্জামান জামাল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান বাবু রয়েছেন আলোচনায়। তবে সম্মেলনে কর্মীবান্ধব, সৎ, যোগ্য, পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন নেতা নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন কর্মীরা। যিনি তৃণমূলে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সুসংগঠিত করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা, দলের নির্দেশনা অনুসরণ ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, পোস্টারে অনেকে আগ্রহী প্রার্থী থাকতে পারেন। কিন্তু সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে যাদের নামের প্রস্তাবক ও সমর্থক থাকবে তারাই মূলত প্রার্থী। এরপর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা যার ওপর আস্থা রাখবেন তিনিই নেতা নির্বাচিত হবেন।

কোনো হাইব্রিড, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ ও ভূমিখেকোকে দলে জায়গা দেওয়া হবে না। এদিকে সম্মেলন উপলক্ষে নেতাদের ব্যানার- ফেস্টুনে ভরে গেছে পুরো খুলনা মহানগরী। নগরীর প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় আড়াইশ তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর
close