শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪০

সিলেটের যত মেগা উন্নয়ন

উন্নয়নের নতুন হাওয়া বিভিন্ন খাতে

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ভাই আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবর্তে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে ছোট ভাই ড. এ কে আবদুল মোমেনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক ‘অভিজ্ঞতাহীন’ মোমেন রাজনীতির ময়দানে এসে কতটা কী করতে পারবেন, এ নিয়ে তখন সিলেটে ছিল নানা কানাঘুষা। তবে নির্বাচিত হয়ে নিজের অভিজ্ঞতা আর কর্মদক্ষতা দিয়ে সব সংশয় দূর করে দিয়েছেন ড. মোমেন। এক বছরের মধ্যে সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থায় অন্তত তিনটি মেগা প্রকল্পের সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন তিনি। এর বাইরে তাঁর সময়ে সিলেটের বিভিন্ন খাতেও লেগেছে উন্নয়নের নতুন হাওয়া। এ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থা নয়, শিল্পায়নেও সিলেট এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সিলেটবাসী। গেল এক বছরে ড. মোমেনের হাত ধরে সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থায় তিনটি মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে। এগুলো হলোÑ সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্প, সিলেট-আখাউড়া পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েল-গেজে রূপান্তর প্রকল্প এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। জানা গেছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক বর্তমানে দুই লেনে আবদ্ধ। সিলেট অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কটি                  কমপক্ষে চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সংসদ সদস্য হওয়ার পর ড. মোমেন বিষয়টিতে জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দেনদরবার করে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করার বিষয়টি পাস করান মোমেন। মেগা এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়ন করবে বলে জানিয়েছেন ড. মোমেন। এদিকে, সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ২৩৯ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েল-গেজে রূপান্তর করার প্রকল্পও পাস হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্যও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আবদুল মোমেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত কথা বলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় গেল বছর ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটার-গেজ রেললাইনকে ডুয়েল-গেজ রেললাইনে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের সভায় পাস হয়। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। ড. মোমেন জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সিলেট-ঢাকা কিংবা সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে ব্রড-গেজ ট্রেন ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার ও মিটার-গেজ ট্রেন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। এ ছাড়া সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলা ট্রেনও পাচ্ছে নতুন বগি। ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর নতুন বগিগুলোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও মেগা প্রকল্পের ছোঁয়া লেগেছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন চারটি বোর্ডিং ব্রিজও যুক্ত হচ্ছে এ বিমানবন্দরে। রানওয়ে সম্প্রসারণে ৩৮৭ কোটি টাকার প্রকল্প ও নতুন টার্মিনাল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে আরও প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান। মোমেনের উদ্যোগে বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য ফ্রি ওয়াইফাইও চালু হয়েছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে এ বিমানবন্দরকে পরিপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ড. মোমেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর