শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৯

বিচার কাজ শেষ হয়নি আট বছরেও

তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকান্ড

নাজমুল হুদা, সাভার

বিচার কাজ শেষ হয়নি আট বছরেও

ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে আগুনে নিহতদের স্মরণে গতকাল সকাল থেকে কর্মসূচি পালন করেছেন আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল সেই ট্র্যাজেডির আট বছর পূর্ণ হয়েছে। দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম এ দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে মারা যান ১১৪ জন শ্রমিক, আহত হন দুই শতাধিক। সে দিনের ভয়াবহ আগুন থেকে বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা আজও শরীর আর মনে বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্ষত। ভয়াবহ সেই ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করলেও আট বছরেও শেষ হয়নি বিচারকাজ। নির্ধারিত সময়ে সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় মামলাটির বিচার থেমে আছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দিলারা আলো চন্দনার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু ওইদিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। এ জন্য আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে। ২০১২ সালে এই দিনে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশন নামের পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কেড়ে নেয় শত শ্রমিকের প্রাণ। জীবন বাঁচাতে ভবনটি থেকে লাফিয়ে পড়েও মারা যায় অনেকেই। আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে শত শত শ্রমিকের বাঁচার আকুতি আর কান্না, নাড়া দিয়েছিল সারা বিশ্বকে।

বেঁচে ফেরাদের অনেকেই হারিয়েছেন শরীরিক সক্ষমতা, হারিয়েছেন আপনজন। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও, নামমাত্র সেই অনুদানের টাকার প্রায় সবটুকুই ব্যয় করতে হয়েছে চিকিৎসায়। বিজিএমইএসহ বিভিন্ন এনজিওর সহযোগিতায় চাকরি বা ক্ষুদ্র ব্যবসা দিয়ে অনেকেই নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। তবে, অসহায় গরিব শ্রমিকদের অনেকেরই, চিকিৎসা ও সংসার খরচ মেটাতে বিক্রি করতে হয়েছে ভিটেমাটি। আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান শ্রমিক নেতারা।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের ঢাকা  জেলা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, পরিত্যক্ত যে ভবন সেটা আধিগ্রহণ করে যেন পোশাক শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, নামমাত্র পারিশ্রমিক তারা পেয়েছেন। যেটা তাদের জন্য যথেষ্ট না। এখনো সুযোগ আছে সরকার ও বিজেএমইএর; উদ্যোগ নিয়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর