শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২০

২৮ বছর ধরে নির্বাচনী ইস্যু জলাবদ্ধতা

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

২৮ বছর ধরে নির্বাচনী ইস্যু জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মিউনিসিপ্যাল থেকে করপোরেশনে উন্নীত হয় ১৯৯২ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি নির্বাচনেই মেয়র পদের প্রার্থীদের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু ছিল নগরবাসীর অভিশাপ খ্যাত জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু ২৮ বছর ধরে এই ইস্যু নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি। বরং প্রতি বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় নগর। তবে বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

জানা যায়, চসিকের ১৯৯৪ সালের প্রথম, ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয়, ২০০৫ সালের তৃতীয়, ২০১০ সালের ১৫ মে চতুর্থ এবং ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল পঞ্চম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি নির্বাচনে প্রধান দুই দলের মেয়র পদের প্রার্থীদের ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীর কপাল লিখন খ্যাত জলাবদ্ধতা নিরসন। সর্বশেষ গতকাল আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ৩৭ দফার ইশতেহারের প্রথমটিই হলো জলাবদ্ধতা নিরসন। তাছাড়া বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়াসহ ৯টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এর আগে ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিনের ইশতেহারের প্রথম অধ্যায় ‘জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি’ শীর্ষক শিরোনামে পাঁচটি সুপারিশ দেওয়া হয়। ওই বছর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলমও ইশতেহারের শুরুতে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কিন্তু নির্বাচন যায়, মেয়র আসেন, কিন্তু নগরবাসীর ভাগ্য বদলায় না। বৃষ্টি নামলেই নগরে হাঁটুপানি। শুধু তাই নয়, ২০০৭ সালের ১০ জুন টানা বর্ষণে কেড়ে নিয়েছিল ১২৭টি প্রাণ। ফলে জলাবদ্ধতা নগরবাসীর জন্য কেবল ভোগান্তি নয়, সঙ্গে আতঙ্কের নামও।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘নগরের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ন্যূনতম সেবা দিতে পারাটাই আমার আসল যোগ্যতা। বর্তমানে নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। তাই সবার সহযোগিতা পেলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করব। তবে চলমান মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিরসন হবে।’ বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন  বলেন, ভৌগোলিকভাবেই চট্টগ্রাম মহানগর পাহাড়, সাগর ও নদী পরিবেষ্টিত। পাহাড় হতে বৃষ্টির পানি বিভিন্ন খালের মাধ্যমে নগরের মধ্য দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে যায়। অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি মাটি পড়ে খাল ও নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তব উদ্যোগ নেব। জানা যায়, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৮ বছরের ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে।

২৮ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অধীনে ৩৬টি খাল খনন এবং নগরের নালা ও ড্রেন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাকালে কাজ বন্ধ থাকায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর