শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ মে, ২০২১ ২৩:৫১

লকডাউনে ‘পোয়াবারো’ মোটরসাইকেল ও রিকশার

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার লকডাউন ঘোষণা করে।  লকডাউনের সময় বন্ধ রাখা হয় গণপরিবহন। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামে পোয়াবারো হয় রিকশা ও মোটরসাইকেলের। ফলে লকডাউন চলাকালে সড়কে রাজত্ব চলে এ দুই বাহনের। ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রোগী পরিবহনে দুর্ভোগে পড়তে হয় স্বজনদের।  সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, লকডাউনেও নিত্য নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কিন্তু সড়কে এখন রিকশা ও মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোনো যানবাহন নেই। অন্তত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ থাকলেও অনেক সমস্যা সমাধান হতো। সাধারণ মানুষ কষ্ট করে হলেও অতিরিক্ত ভাড়ায় চলাফেরা করছে। কিন্তু বেশি বিপাকে পড়ছেন রোগী পরিবহনে।

কারণ সব রোগীর স্বজনদের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের সক্ষমতা থাকে না। তখন অটোরিকশাই একমাত্র ভরসা। এখন অটোরিকশা না থাকায় রোগী পরিবহনে বিপদে পড়তে হচ্ছে।

জানা যায়, সরকার গত ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে। কার্যত এরপর থেকেই থেমে যায় গণপরিহন- বাস, টেম্পো ও অটোরিকশার চাকা। কিন্তু থেমে নেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা। জরুরি প্রয়োজনে অনেককেই বাইরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম রিকশা এবং মোটরসাইকেল। তবে এ দুটি বাহনই লকডাউন ও যানবাহন সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।

আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, আন্দরকিল্লা মোড় থেকে সাধারণ সময়ে রিকশা ভাড়া ৩০-৩৫ টাকা। কিন্তু তারা দাবি করছে ৫০-৬০ টাকা। আন্দরকিল্লা থেকে নিউ মার্কেট ভাড়া ৩০ টাকা হলেও দাবি করছে ৬০ টাকা। এভাবে গণপরিবহন না থাকার ফলে তারা দ্বিগুণ তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছে।

টেরিবাজারের ব্যবসায়ী সেলিম আহমদ বলেন, টেরিবাজার থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৫০ টাকা। কিন্তু এখন রিকশারও সংকট। তাই মোটরসাইকেলই আমাদের কাছে ভরসা। টেরিবাজার থেকে নতুন ব্রিজ ভাড়া দাবি করে ১০০ টাকা। কিন্তু বাধ্য হয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে প্রতিদিনই নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। গত শনিবার একদিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চারজন। গত শনিবার এক দিনেই আক্রান্ত হয় ৮৪ জন। গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট আক্রান্ত হন ৫০ হাজার ৮৪ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৪০ হাজার ১১২ জন এবং উপজেলায় ৯ হাজার ৯৬২ জন। ইতিমধ্যে মারা গেছেন ৫২৮ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৩৯১ জন ও উপজেলায় ১৩৭ জন। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ১০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর