শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুন, ২০২১ ২৩:১২

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের পুকুরে ‘সুবর্ণ রুই’

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের পুকুরে ‘সুবর্ণ রুই’
Google News

দেশের পুকুরে প্রথমবারের মতো অবমুক্ত করা হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের ‘সুবর্ণ রুই’। ময়মনসিংহে গতকাল দুপুরে ভার্চুয়ালি রুই মাছের জাতটি মৎস্য অধিদফতর ও কয়েকজন হ্যাচারির মালিকের কাছে অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। বিএফআরআইর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ভার্চুয়াল ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ। ‘সুবর্ণ রুই’ নামকরণের ফলে চাষি, হ্যাচারি মালিক ও উদ্যোক্তাদের কাছে নতুন এ জাতটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই এমন নামকরণ। রুই মাছের নতুন ওই জাতটি দ্রুত বর্ধনশীল, স্থানীয় জাতের চেয়ে ২০.১২ শতাংশ বেশি উৎপাদনশীল, খেতে সুস্বাদু এবং দেখতে লালচে ও আকর্ষণীয়। উন্নত জাতের নতুন উদ্ভাবিত রুই মাছ মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হলে দেশে আট টন মাছ বেশি উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, অধিক উৎপাদনশীল ও অন্তপ্রজনন সমস্যামুক্ত উন্নত জাতের চতুর্থ প্রজন্মের ‘সুবর্ণ রুই’ মাছ স্বাদুপানি ও আধা-লবণাক্ত পানির পুকুর, বিল, বাঁওড় ও হাওরে চাষ করা যাবে।

এতে সামগ্রিকভাবে দেশে প্রায় ৮০ হাজার কেজি বেশি মাছ উৎপাদন সম্ভব হবে।  এ ছাড়া উন্নত এ জাতের রেণু পোনা হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে নার্সারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেকেই লাভবান হতে পারবেন বলেও জানান ইয়াহিয়া মাহমুদ। জানা যায়, হালদা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র উৎসের রুই মাছের মধ্যে দ্বৈত অ্যালিল ক্রসিংয়ের মাধ্যমে ৯টি গ্রুপ থেকে প্রথমে বেইজ পপুলেশন তৈরি করা হয়।

পরে বেইজ পপুলেশন থেকে সিলেকটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে ২০০৯ সালে রুই মাছের উন্নত জাতের প্রথম প্রজন্মের (এফ-ওয়ান) মাছ উদ্ভাবন করা হয়, যা বেইজ পপুলেশন থেকে ৭.৫ ভাগ বেশি উৎপাদনশীল। পরবর্তী সময়ে সিলেকটিভ ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে রুই মাছের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের ১২.৩৮ ও ১৬.৮৩ ভাগ বেশি উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। সবশেষ ২০২০ সালে উন্নত জাতের চতুর্থ প্রজন্মের জাত তৈরি করা হয়েছে, যা স্থানীয় জাতের চেয়ে ২০.১২ ভাগ বেশি উৎপাদনশীল। এমনকি এ জাতের কৌলিতাত্ত্বিক অবদান স্থানীয় জাতের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়েছে। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ জাত অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।

এই বিভাগের আরও খবর