শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল, ২০২০ ০১:৪১

করোনার বিপদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যে উদ্যোগে অভিভূত টরন্টোবাসী

অনলাইন ডেস্ক

করোনার বিপদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যে উদ্যোগে অভিভূত টরন্টোবাসী

বিশ্বব্যাপী মহাপির্যয় নামিয়ে এনেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। এর প্রকোপে অসহায় হয়ে পড়েছে বিশ্ববাসী।

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৮৭ হাজার মানুষের।

চীনের উহান থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও এর বিষাক্ত ছোবলে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা।

আমেরিকার পাশ্ববর্তী কানাডায়ও পড়েছে এই ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবল। প্রাণঘাতী এই করোনার সংক্রমণ থেকে জনগণকে রক্ষায় মরিয়া বিশ্বের সব দেশ। এর প্রকোপ থেকে বাঁচার মূল মন্ত্র হচ্ছে নিজে বাড়িতে থেকে নিরাপদ থাকা এবং প্রতিবেশীদের নিরাপদে রাখা।

এই মন্ত্রকে বিশ্বের আক্রান্ত প্রায় সব দেশই কমবেশি অনুসরণ করছে। এই অবস্থায় কানাডায়ও চলছে লকডাউন। এই লকডাউনে বাড়িতে নিরাপদে থেকেও মানুষজন নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে বয়স্করা। 

করোনার ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে কানাডার টরন্টোসহ আশপাশের এলাকায় অসুবিধায় থাকা লোকজনক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস কমিউনিটি সাপোর্ট সার্ভিসেস ( সিসিএসএস) নামের টরন্টো প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সামাজিক উদ্যোগ।

আইসোলেশনে থেকে যারা বিপদের মুখে পড়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই, ওষুধ ও খাবার সরবরাহ করছে সিসিএসএসের স্বেচ্ছাসেবীরা।

স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে তারা করোনার কারণে বিপদে পড়া মানুষদের খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করছেন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে এই সেবা দিয়েছেন এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

এরই মধ্যে এই উদ্যোগের উপকারভোগী অনেকে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন। সিসিএসএসের ফেসবুক গ্রুপে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন অনেকে। বৈরী সময়ে ভালোবাসা নিয়ে কাছে দাঁড়ানোর বিষয়টি মানুষকে যে কতটা শক্তি জোগায়, ফেসবুক গ্রুপের মন্তব্যগুলো পড়লে সে সম্পর্কে একটা ধারণা মেলে।

বাংলাদেশ থেকে এক মা তার কানাডাপড়ুয়া কন্যার সমস্যায় সিসিএসএসের এগিয়ে আসার কথা জেনে স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘কীভাবে ধন্যবাদ জানাব, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। বাংলাদেশ থেকে ঘুরে যাওয়ায় বাড়িওয়ালা একরকম জোর করে আমার মেয়েকে বের করে দিল। আমার অসুস্থ মেয়ের মুখে খাবার মুখে তুলে দিয়েছেন আপনারা। মা হয়ে আমি পারিনি। আমার মেয়েকে ভালোবাসা, সাহস দিয়ে আগলে রেখেছেন আপনারা। শুধু ধন্যবাদ এই সহায়তায় কাছে মূল্যহীন। সকলের জন্য আমার প্রার্থনা।’

টরন্টোতে বসবাসরত এক মা তার অটিস্টিক সন্তানকে নিয়ে সমস্যায় পড়েন। সাহায্য চেয়ে ফোন করেন সিসিএসএসের নম্বরে। সময়মতো সহযোগিতা পেয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমার স্বামী আরেকটি দেশে কাজের জন্য আটকে আছেন। এদিকে করোনায় সকল পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করেছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় গ্রোসারির পাশাপাশি নিজের ও সন্তানের জন্য বিশেষ কিছু জিনিসের জরুরি দরকার ছিল। আমি ফোন করে সাহায্য চেয়েছি। তাঁরা আমাদের নিরাশ করেননি। তাদের কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ, এই সহযোগিতার কথা কোনো দিন ভুলব না।’

টরোন্টোতে বাংলাদেশ কমিউনিটির এই উদ্যোগের উপকারভোগী শুধু কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাই নন। অন্যান্য কমিউনিটির মানুষেরাও সহযোগিতার জন্য ফোন করছেন।

টরোন্টোয় বসবাাসরত কবি আসাদ চৌধুরী এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় টরন্টো প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনন্য প্রচেষ্টা এই উদ্যোগ।

প্রয়োজনে ফেসবুক গ্রুপ বা নিচের ফোন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। সবিতা সোমানি: ৪১৬৪৫০০৯১৩, নওশের আলি: ৪১৬৬৬০০০০৯, রেজাউল ইসলাম: ৬৪৭৬৭৭০২৩১

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য