চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে চলছে পাট কাটা ও শুকানোর কাজ। তবে চাষিদের অভিযোগ, সরকার পাটের আগাম বাজারমূল্য নির্ধারণ না করায় দালাল ও ফড়িয়ার কাছে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। হাওড় অঞ্চলের কৃষকরা জানান, একসময় বাংলাদেশের সোনালি আঁশখ্যাত পাট বিদেশে রপ্তানি করা হতো। তবে পাটের সেই সোনালি দিন আর নেই। পাটচাষি ওসমান মিয়া জানান, পাট চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া শ্রমিককে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। কিন্তু পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় খরচ ওঠানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। গ্রামের সাধারণ কৃষকরা না বুঝে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আর এ সুযোগে দালাল ও ফড়িয়ারা পাটের গুদামে মজুত করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। আর কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে লাভের মুখ দেখতে পায় না। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মণপ্রতি পাটের আগাম মূল্য নির্ধারণ করা জরুরি। এতে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা লাভবান হবেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে হাওড়বেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, সরাইল, বিজয়নগর, নবীনগর এবং বাঞ্ছারামপুর এলাকার ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে দেশি, কেনাফ, মেছতা এবং তোষা জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকরা ন্যাযমূল্য পাবেন বলে আশা করি। এ বছর পাটের যে উৎপাদন হয়েছে তার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু বকর জানান, পাটের ব্যবহার বাড়াতে আমাদের ‘অন দ্য জব’ নামে একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। সেখানে ১১ দিনের প্রশিক্ষণে পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর প্রশিক্ষণ করানো হয়। এই পাটজাতপণ্য যেন বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সেখানে সে সুযোগ রয়েছে। আমরা বলেছি, যদি কেউ পাট নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেই সুযোগ করে দেওয়া হবে।