দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা আমাদের। দেশের ১৮টি ট্রমা সেন্টারের ১২টিই অচল। প্রায় দেড় শ কোটি টাকায় এগুলো বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। যেন সড়ক দুর্ঘটনা, পুড়ে যাওয়া বা অন্য কোনো বড় ধরনের শারীরিক আঘাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা জরুরি চিকিৎসা পেতে পারে। এগুলো এক একটি জরুরি বিভাগও বটে। কিন্তু এই হাসপাতালগুলোর শোচনীয় দশা পীড়াদায়ক। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের শীর্ষ সংবাদ শিরোনাম ছিল ‘ট্রমা সেন্টার নিজেই ট্রমায়’। কী মর্মান্তিক পরিণতি! কিন্তু কেন, কোথায় সংকট-সেটাই চিহ্নিত করা চাই। প্রতিবেদনের বিবরণ এরকম-‘১৪০ কোটি টাকায় তৈরি দেশের ১৮টি ট্রমা সেন্টারের ১২টিই পড়ে আছে অচল অবস্থায়। নষ্ট এবং চুরি হচ্ছে যন্ত্রপাতি, আসবাব। কোনোটি বা পরিণত হয়েছে মাদকের আস্তানায়।’ এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? প্রশাসনিক তথ্য বলছে, প্রতি ট্রমা সেন্টারে সাতজন পরামর্শক চিকিৎসক, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্টসহ ১৪ জন চিকিৎসক এবং প্রশাসনিক ও সহায়ক মিলিয়ে মোট ৩৪টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সেন্টারেই সেই প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি। জরুরি সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি। যন্ত্রপাতি আছে তো অপারেটর নেই। অ্যাম্বুলেন্স আছে তো চালক নেই। যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থেকে আয়ুক্ষয় করছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দিনে দিনে পরিত্যক্তের তালিকাভুক্ত হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। এই হযবরল অবস্থাই কঠিন এবং করুণ বাস্তবতা। যে হাসপাতালগুলো দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচানোর নির্ভরযোগ্য ভরসাস্থল হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। গ্রাম-গ্রামান্ত, জেলা-উপজেলা শহরের গুরুতর আহত রোগীদের প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে হয় সেই ঢাকার পথে। বিশেষায়িত হাসপাতালে আনার এই দীর্ঘ যাত্রায়, অসহনীয় যন্ত্রণা বা নিয়ন্ত্রণহীন রক্তক্ষরণে পথেই প্রাণ হারায় অনেকে। এর আপাত এবং যৎকিঞ্চিৎ সমাধান হতে পারে- ইতোমধ্যে তৈরি সবগুলো ট্রমা সেন্টারে উপযুক্ত জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধপথ্যের জোগান নিশ্চিত করার মাধ্যমে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ, কঠোর তদারকি এবং দক্ষ ব্যব্যস্থাপনায় এগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতি জেলায় অন্তত একটি ট্রমা সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ঊর্ধ্বতনদের তরফ থেকে অতীতের ব্যর্থতা আর দুর্নীতির কাদা ঘেঁটে সময়ক্ষেপণ কিংবা দায় লাঘবের সাফাই অনাকাক্সিক্ষত। এই মুহূর্ত থেকে কাজে নামুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ট্রমা সেন্টারগুলোকে পূর্ণোদ্যমে সেবায় সক্ষম করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ, পদক্ষেপ নিক। কোথায় সংকট, প্রয়োজনে তা জাতির সামনে তুলে ধরুক। জনগণের সরকার অবশ্যই তার যা কিছু করণীয়, তা করবে।
শিরোনাম
- স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসছে ইসি
- ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সদর দফতরে বোমা হামলার হুমকি: রিপোর্ট
- প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ
- ভূমিকম্পের আট দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার এক ব্যক্তি!
- বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী সৌদি আরব
- কাকতালীয়ভাবে ‘৮৬তম’ মিনিটেই ভাঙল তিন আফ্রিকান দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন
- এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় উঠে বিয়ের প্রস্তাব, যুগল গ্রেফতার
- নতুন ভিসানীতি করছে সরকার, খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন
- জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই ভারতের
- জুনে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ
- দামেস্কের ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণ, হতাহত ২১
- গরমে ফ্রান্সে এসি কিনতে হুড়োহুড়ি, ভিড় সামলাতে নামল পুলিশ
- আদাবরে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: তিন সন্দেহভাজন আটক
- সুইডেনে রুশ দূতাবাসে ড্রোন হামলা: রিপোর্ট
- টেকসই উত্তরণে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
- তীব্র তাপপ্রবাহে নাজেহাল ফ্রান্স, এসি-ফ্যান কিনতে হুড়োহুড়ি-সংঘর্ষ
- মেসির বেলায় ছাড়, বালোগানের লাল কার্ডে নতুন বিতর্ক
- জুলাই শহীদদের স্মরণসভা শনিবার, উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
- সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে আলাদা চুক্তির পথে উপসাগরীয় দেশগুলো!
ট্রমায় ট্রমা সেন্টার
দ্রুত ব্যবস্থা নিক কর্তৃপক্ষ
প্রিন্ট ভার্সন
টপিক
এই বিভাগের আরও খবর