শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৮ ২৩:০৫

গাজীপুরে বন কেটে হবে মিনি স্টেডিয়াম

মন্ত্রিসভায় কোটা নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আমদানি তেল খালাসের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) টার্মিনাল তৈরি করা হবে। এ দুই প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই জায়গায় সংরক্ষিত বনের ৩ হাজার ২৪৭টি গাছ কাটতে হবে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব গাছ কাটার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। এদিকে বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় কোটা সংস্কারের আন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মহেশখালীতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং’ করা হচ্ছে, ওখানে বনে কিছু গাছ আছে, সেগুলো কাটার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। মহেশাখালী পাহাড় মৌজায় ১৯১ দশমিক ২৫ একর বনভূমি লিজ নিয়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, সেখানে বিভিন্ন রকমের প্রায় ১ হাজার ৭০১টি গাছ আছে, বেতজাতীয় ঝোপঝাড় আছে। বনজ সম্পদের ক্ষতিপূরণ বাবদ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ১ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪৯ টাকা পরিশোধ করেছে বলে জানান শফিউল আলম। তিনি বলেন, যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে, তার পাঁচ গুণ গাছ বন অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন রোপণ করে আগামী ১০ বছর দেখভাল করবে, এই শর্তে তাদের গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর বনে বট, লালী, বাদাম, বরই, কাউফল, শিমুল, ছাতিয়ান, কদম, সোনালুসহ বিভিন্ন জাতের গাছ কাটা হবে বলে জানান সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

অন্যদিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ২ একর ৩৪ শতক সংরক্ষিত বনের ১ হাজার ৫৪৬টি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সেখানে আকাশমণি গাছ ১ হাজার ৪০০ এবং কাঁঠাল, জাম, আম, তাল, গামারি, বরাগ বাঁশ, মুলিবাঁশসহ অন্যান্য প্রজাতির ১৪৬টি গাছ কাটার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কাপাসিয়ার সংরক্ষিত ওই বনে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা নীতিমালা অনুযায়ী টাকা পাবেন। সামাজিক বনায়নে যারা গাছ লাগান তারা ৭০ ও অন্যরা ৩০ শতাংশ পান। এ ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

স্যাটেলাইট উেক্ষপণে অভিনন্দন প্রস্তাব : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উেক্ষপণ হওয়ায় একটি অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। এর আগে শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করা হয়। সচিব শফিউল আলম বলেন, স্যাটেলাইট সফলভাবে উেক্ষপণ হওয়ায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একটি অভিনন্দন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পরে তা গৃহীত হয়। স্যাটেলাইটের সফল উেক্ষপণ হওয়ায় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

শোকপ্রস্তাব : জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এবং সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাঈদুল ইসলামের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভা শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন : মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে এখন থেকে এই মন্ত্রণালয়ের নতুন নামকরণ হয়েছে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়’। তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের এ প্রস্তাব আগেই এসেছিল। আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ’ যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলায় ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়’ এবং ইংরেজিতে Ministry of Environment, Forest and Climate Change হবে এ মন্ত্রণালয়ের নাম।

নতুন কক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠক : সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের ১৩ তলায় নতুন করে সুসজ্জিত মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন কক্ষে বৈঠকের খবর জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, একটি নতুন রিনোভেটেড রুমে গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়েছে, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। ৬ নম্বর ভবনের ১৩ তলায় আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দফতর ছিল। ১৩ তলার একপাশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অন্যপাশে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষ করা হয়েছে।

অনির্ধারিত আলোচনা : গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোটা সংস্কার নিয়ে গেজেট প্রকাশের ব্যাপারে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়াটা এক ধরনের বাড়াবাড়ি। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা একটা সিদ্ধান্ত দিয়েছি, বলেছি আমরা এটা করব। বাস্তবায়নে সময় তো লাগতে পারে। এরপর আবার আন্দোলন, আলটিমেটাম দেওয়া, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি; এটা তো বাড়াবাড়ি। বৈঠক শেষে একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে কোটা সংস্কারের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি তো সিদ্ধান্ত দিয়েই দিয়েছি। আমরা তো বলেছি, আমরা এটা করব। কিন্তু এখনই এটা করতে হবে, এটা কী? আমি তো বলেছি, কোটা থাকবে না। এর পরও আলটিমেটাম দেওয়া, হুমকি দেওয়া, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া, এটা কী? এর তো কোনো যুক্তি নেই। আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় তো লাগতে পারে। এটা নিয়ে হুমকি দেওয়া, আলটিমেটাম দেওয়া; এটা তো বাড়াবাড়ি। এই আলোচনায় মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্যরা অংশ নেন।

এদিকে গতকালের বৈঠকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার বিষয়টিও উঠে আসে। স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন সমালোচনা করুক, ভালো না লাগলে যৌক্তিক কোনো সমালোচনা থাকলে করতে পারে কিন্তু বিভ্রান্তি ছাড়ানো হচ্ছে কেন? এ স্যাটেলাইটের মালিকানা সরকার ছাড়া আর কারও হওয়ার সুযোগ নেই। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন তারা না বুঝে এটা করছেন বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন।


আপনার মন্তব্য