শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:০৫

হাসবেন বঞ্চিতরা, কাঁদবেন বিতর্কিতরা

আওয়ামী লীগের সম্মেলন

রফিকুল ইসলাম রনি

হাসবেন বঞ্চিতরা, কাঁদবেন বিতর্কিতরা

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনগুলোয় কিছু না কিছু চমক থাকে। এবার ২১তম সম্মেলন হতে যাচ্ছে একটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। সম্মেলনের আগেই দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান দেশবাসীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মনে আশা জাগিয়েছে। দলের সহযোগী সংগঠনে পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব আসায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পদে আসতে নতুন প্রত্যাশা জেগেছে বঞ্চিত, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্নদের। সেই প্রত্যাশা পূরণে বঙ্গবন্ধুকন্যা পদক্ষেপ নেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দলের চালিকাশক্তির আসনে বসাবেন। বিদায় জানাবেন ‘বিতর্কিত’ ও ‘ভোগীদের’। অর্থাৎ এবারের সম্মেলনে হাসবেন বঞ্চিত ও ত্যাগীরা। কাঁদবেন দলে নানাভাবে বিতর্কিতরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।  

সূত্র মতে, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনে নেতৃত্বের গুণগত পরিবর্তন আনতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তিনি সাবেক ছাত্র ও যুবনেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে দক্ষ ও পরীক্ষিত পরিচ্ছন্ন ইমেজের ব্যক্তিদের নিয়ে সংগঠনকে ঢেলে সাজাবেন। সরকারের তিন মেয়াদে যারা যোগ্যতা থাকার পরও দলের মনোনয়ন পাননি কিংবা কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাননি অথবা লাভজনক কোনো পদে বসতে পারেননি তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে। একইভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে যারা নানাভাবে বিতর্কিত। এর মধ্যে রয়েছেন যারা মন্ত্রীসভায় ছিলেন অথবা আছেন তাদের এবং পরিবারের সদস্যদের আমলনামা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের আমলনামার কারণে দু-একজন তারকা নেতার কপাল পুড়তে পারে। একইভাবে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে থেকে যারা দায়িত্ব পালন না করে ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী ছিলেন, যারা প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারির কাজ নিয়েছেন, তারাও বাদ পড়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সম্মেলনে প্রথমবারের মতো সম্পাদকীয় পদ পাওয়া এক নেতা ১২০ কোটি টাকার একটি টেন্ডারের জন্য হাই কোর্ট এলাকার একটি ভবনে গিয়ে কর্মকর্তাদের শাসিয়েছিলেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত গড়ায়। এর আগেও ওই নেতা সেখানে একটি বড় কাজ প্রভাব খাটিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে অনেক সম্পাদকম-লীর সদস্য আছেন যাদের বিরুদ্ধে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেয়ে নিজ নিজ এলাকায় সংসদ কিংবা উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল সৃষ্টির প্রধান হিসেবে নাম এসেছে দলীয় সভানেত্রীর কাছে। মনোনয়ন ও কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্তরা ঠাঁই পাবেন না কেন্দ্রীয় কমিটিতে। 

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় সম্মেলনে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বাদ পড়ার আশঙ্কা আছে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় অর্ধেক সদস্যের। প্রেসিডিয়ামের দু-একজন তারকা নেতার স্থান হবে উপদেষ্টা পরিষদে। সম্পাদকম-লীর অনেক সদস্যকে সদস্য করা হতে পারে। একইভাবে সদস্য থেকেও কেউ কেউ উপদেষ্টায় যেতে পারেন। একইভাবে পদোন্নতি হতে পারে যারা দায়িত্ব পালনে শতভাগ মনোযোগী এবং দল ক্ষমতায় থাকলেও কোনো প্রভাব বিস্তার করে অনৈতিক কোনো কাজ করেননি তাদের। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠন করা হবে একটি যুগোযোপযোগী ও শক্তিশালী কমিটি। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যে নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেই নেতৃত্বে আসবে এবারের সম্মেলনে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটিতে কেমন পরিবর্তন হতে পারে জানতে চাইলে গতকাল দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এটা মন্ত্রীসভার মতোই। মন্ত্রীসভাও প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এখানে পারফরম্যান্সের বিষয় রয়েছে। যারা নন-পারফরমার, যাদের পারফরম্যান্স পুওর, তাদের অহেতুক বড় দায়িত্বে রেখে তো লাভ নেই। সে বিচারে পারফরম্যান্স যাদের পুওর তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন হতে পারে। আমাদের এখানে কেউ বাদ যাবে না, কেউ বাদ যায় না; দায়িত্বের পরিবর্তন হয়।’ আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শুদ্ধি অভিযানের ভিতর দিয়ে হতে যাওয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবার ইতিবাচক গুণগত পরিবর্তন আনতে চান দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবার আমলনামাই তার টেবিলে আছে।’


আপনার মন্তব্য