শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ০১:৪২

করোনা রোগীদের জন্য ভারত দুটি ওষুধ রপ্তানি করবে

গৌতম লাহিড়ি, নয়াদিল্লি

করোনা রোগীদের জন্য ভারত দুটি ওষুধ রপ্তানি করবে

করোনাভাইরাসের প্রকোপে অত্যন্ত কঠিন অবস্থার সুম্মুখীন দেশগুলোয় ভারত দুটি ওষুধ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি ওষুধের নাম হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। অন্যটির নাম প্যারাসিটামল। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এ তথ্য জানিয়ে বলেন, করোনা নিরাময়ে যে মূল ওষুধগুলো পরীক্ষায় ফলপ্রসূ বলে জানা গেছে সেগুলো বিদেশে সরবরাহ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্রে ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন’ সরবরাহে অস্বীকৃতি জানালে ভারতকে এর ‘ফল ভুগতে হবে’- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার এই মর্মে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নয়াদিল্লি তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বিশ্বের জেনেরিক ওষুধের চাহিদার এক-চতুর্থাংশের বেশির জোগানদাতা ভারত। এসব জেনেরিক থেকে উৎপাদিত ২৬ ধরনের উপাদান ও ওষুধ রপ্তানির ওপর ২৫ মার্চ বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশের চাহিদা মেটানোর সামর্থ্য নিশ্চিত করার জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, করোনার ওষুধ বিষয়ে ‘বেহুদা বিতর্ক’ তৈরি করা হচ্ছে। যে কোনো সরকারের মতো ভারত সরকারেরও মূল চেষ্টা হলো দেশবাসীর জন্য ওষুধের পযাপ্ত মজুদ নিশ্চিতকরণ। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সকল পর্যায়ে ওষুধ সুলভ হওয়ায় রপ্তানির বিধিনিষেধগুলোর বেশির ভাগই প্রত্যাহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে সোমবার প্রচারিত হয়, ভারত নিজের আসন্ন সংকট মোকাবিলার স্বার্থে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতের জন্য হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবাক হব যদি তিনি (মোদি) অমন সিদ্ধান্ত (রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ) নিয়ে থাকেন। কারণ ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক খুবই ভালো। তাই আমি ভারতের এ সিদ্ধান্তটা পছন্দ করছি না। এটা ওঁর (মোদির) সিদ্ধান্ত বলেও শুনিনি। আমি এটা জানি যে কিছু কিছু দেশের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকালই (রবিবার) তাঁর সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। দুজনের মধ্যে খুব ভালো আলোচনাও হয়েছে। কাজেই ওটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ছিল কিনা দেখব। বহু বছর ধরেই ওরা (ভারত) বাণিজ্য ক্ষেত্রে আমেরিকার থেকে সুবিধা পেয়েছে।’ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে আলোচনা হয় মোদির। সে প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছি, আমরা আপনার প্রশংসা করব, যদি আপনি আমাদের ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করেন।’ এর পরই হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা সরবরাহের অনুমতি না দেয় তাহলে ঠিক আছে। তার ফলও তাদের ভুগতে হবে।’ করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই ম্যালেরিয়ার ওষুধ ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন’ ব্যবহারের জন্য দেশটি মরিয়া হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প কিছুদিন আগে বলেন, করোনা মহামারী মোকাবিলায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগে নিজের দেশের কথা ভাবতে হবে। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তরজার মধ্যে এমনই বার্তা দিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগে দেশের মানুষের কাছে ওষুধ পৌঁছে দিতে হবে। তারপর অন্য দেশকে সাহায্য করার কথা ভাবা যাবে।

বন্ধুত্বের মধ্যে প্রতিশোধের ভাবনা কেন? : ট্রাম্পের এ মন্তব্যেরই তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। তিনি টুইট বার্তায় বলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ মুহূর্তে নিজের দেশের মানুষকেই প্রাধান্য দিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। টুইটারে রাহুল লিখেছেন, ‘বন্ধুত্বের মধ্যে প্রতিশোধের ভাবনা এলো কোথা থেকে? সাধ্যমতো সব দেশকেই সাহায্য করা উচিত ভারতের কিন্তু সবার আগে প্রাণদায়ী ওষুধ ও উপকরণ দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া অনিবার্য।’

শশী থারুরের বিস্ময় : ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্য শশী থারুর। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে এত বছর আমি কাটিয়ে দিলাম, এর আগে কোনো দেশের প্রধানকে এভাবে অন্য রাষ্ট্রকে হুমকি দিতে দেখিনি। আর ভারতের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনকে তিনি “আমাদের জোগান” বলছেন কীভাবে! আরে, ভারত আপনাদের বিক্রি করলে তবেই তো ওটা আপনাদের হবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর