শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ জুলাই, ২০২০ ০০:১৪

করোনামুক্ত ২৬ দেশ ও অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারিতে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর পাঁচ মাসে ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। আক্রান্ত ১ কোটির বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষাধিক। বাংলাদেশসহ অন্তত ১২টি দেশে দৈনিক নতুন করে রোগী শনাক্ত হচ্ছে তিন হাজারের ওপরে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। অথচ এর মধ্যেই ২৬টি দেশ ও অঞ্চল বিদায় করতে সক্ষম হয়েছে প্রাণঘাতী  ভাইরাসটিকে। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যু হয়নি এমন দেশের সংখ্যা ১৭টি। গতকাল ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বের ২৬টি দেশ ও অঞ্চলে এখন একজনও করোনা আক্রান্ত রোগী নেই। দেশগুলোর জনসংখ্যার ঘনত্ব কম এবং অধিকাংশ দ্বীপরাষ্ট্র ও ইউরোপে অবস্থিত। মার্চ ও এপ্রিলের মধ্যেই দেশগুলোর অধিকাংশে করোনা আক্রান্ত হয়। কোনো কোনো দেশ এক-দেড় মাসের মধ্যেই করোনা বিদায় করতে সক্ষম হয়। ধারণা করা হচ্ছে, জনসংখ্যার কম ঘনত্ব, দ্বীপরাষ্ট্র হওয়ায় বাইরের মানুষের নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করায় সহজে দেশগুলোয় করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। করোনামুক্ত দেশগুলো হলো সান মারিনো, আইল অব ম্যান, ফেরো আইল্যান্ড, ব্রুনাই, অরুবা, বারবাডোজ, লিচেনস্টেইন, সেন্ট মার্টিন, সেন্ট ভিনসেন্ট গ্রেনেডাইনস, পূর্ব তিমুর, গ্রানাডা, নিউ ক্যালেডোনিয়া, লাওস, সেন্ট লুসিয়া, ডোমিনিকা, ফিজি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, গ্রিনল্যান্ড, ভ্যাটিকান সিটি, মন্টসেরাট, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সেন্ট পিয়ের মিক্কেলন, ক্যারিবিয়ান নেদারল্যান্ডস, সেন্ট বার্থলেমি ও অ্যাঙ্গোলা। এই ২৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১৭টিতে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। এর মধ্যে এশিয়ার ৭২ লাখ জনসংখ্যার দেশ লাওসে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ২৪ মার্চ, মুক্ত হয় ৯ জুন। ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট বার্থলেমিতে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ১ মার্চ, করোনামুক্ত হয় ২১ এপ্রিল। অ্যাঙ্গোলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২৬ মার্চ, করোনামুক্ত হয় ২৭ এপ্রিল। এদিকে চীনের কাছাকাছি ২ কোটি ৩৮ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানে ১৫ ফেব্রুয়ারি এক দিনেই পাওয়া যায় ১৮ জন করোনা রোগী। এরপর সাড়ে চার মাস পার হলেও আক্রান্ত সাড়ে চার শর নিচে আটকে রেখেছে দেশটি। মারা গেছে সাতজন। বর্তমানে আক্রান্ত আছে পাঁচজন। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ডা. জেসন ওয়াং বলেন, তাইওয়ান সম্ভাব্য সংকটের ভয়াবহতা আগেই বুঝতে পেরে ভাইরাসের চেয়ে এগিয়ে থাকতে সক্ষম হয়। উহানে করোনা প্রাদুর্ভাবের পরপরই তাইওয়ান সরকার চীনের মূল ভূখ- ছাড়াও হংকং ও ম্যাকাওয়ের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সঙ্গে দেশটির সরকার সার্জিক্যাল মাস্ক রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। এ ছাড়া তাইওয়ান সরকার ন্যাশনাল হেল্থ ইনস্যুরেন্স এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টম বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো সমন্বয় করে। এর মাধ্যমে তারা জনগণের ভ্রমণের তথ্য নিয়ে শুরুতেই সম্ভাব্য রোগীদের শনাক্ত করে ফেলে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়েই তারা ভাইরাসটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে সক্ষম হয়।

ভারতে আক্রান্ত বাড়ছেই : সাড়ে ৫ লাখের বেশি আক্রান্ত নিয়ে মোট আক্রান্তের হিসাবে এ মুহূর্তে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও রাশিয়ার পরই ভারতের অবস্থান। ভারতে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। এ মৃত্যুহার অন্যান্য দেশের মতো নিম্ন হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, যেভাবে রোগী বাড়ছে তার চাপ দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা সামলাতে ব্যর্থ হতে পারে।

ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তখন দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শিথিল করতে যাচ্ছে দেশটি। বুধবার থেকে বেশকিছু বিধিনিষেধে শিথিলতা এনে আনলক ২.০-তে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ভারত। লকডাউনের বিধিনিষেধে শিথিলতা আনা হলেও দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিনেমা হল, ব্যায়ামাগার ও পানশালা বন্ধ থাকবে। কিন্তু প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির বেশকিছু শহরে লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে আরও ১৮ হাজার ৫২২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে নতুন সংক্রমণের এ সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে সামান্য কম; রবিবার দেশটিতে ১৯ হাজার ৯০৬ জন করোনা সংক্রমিত হন।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হচ্ছে থাইল্যান্ডে : ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহানে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো প্রথম দেশগুলোর অন্যতম থাইল্যান্ড। তবে দেশটিতে ভাইরাসটির সংক্রমণ অনেক কম। থাইল্যান্ড এখন প্রায়ই আক্রান্ত ও মৃত্যুবিহীন দিন পার করছে। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা সোমবারের প্রতিবেদনে জানায়, সংক্রমণ কমে আসায় থাইল্যান্ড ১ জুলাই আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার এ ঘোষণা দেয় দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বুধবার থেকে পাব, বার ও কারাওকে ভেন্যুগুলো পুনরায় খুলে যাচ্ছে- দেশটির সরকারের কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণবিষয়ক বিশেষ সেন্টারের এক মুখপাত্র তেওইয়েসিন উইসানুইয়োতিন এমন ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক রুটগুলোয় বিমান চলাচল শুরুর এ ঘোষণা এলো। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহানে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরও দুই সপ্তাহ পর ১৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ে। কিন্তু করোনার বিস্তার রোধে অনেকটা সাফল্য দেখিয়েছে দেশটি। চীনের পরপরই থাইল্যান্ডে করোনার বিস্তার শুরু হলেও দেশটি তা সামাল দিতে সক্ষম হয়। তাই ছয় মাস পার হলেও সেখানে এখন করোনায় আক্রান্ত সক্রিয় রোগী ৫৮ জন। আক্রান্তদের ৫৮ জন মারা গেছেন। মোট ৩ হাজার ১৬৯ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হলেও তাদের ৩ হাজার ৫৩ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর