শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৯

গাজীপুর আইসিডিতে আগ্রহী চীন

অটোমেশনের প্রস্তাব দুবাই পোর্টের

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

Google News

অর্থায়নের অনিশ্চয়তায় যে প্রকল্পটি প্রায় এক যুগ আটকে ছিল, এখন সেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দাতা সংস্থাসহ একাধিক দেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকল্পটিতে অর্থায়নের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করার পর এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুবাই পোর্ট বা ডিপি ওয়ার্ল্ড ও চীন এই প্রকল্পে যুক্ত হতে চাইছে। প্রকল্পটি হচ্ছে গাজীপুর ধীরাশ্রম ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল ডিপো (আইসিডি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের গতি বাড়াতে যে তিনটি প্রকল্প সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে তার একটি হচ্ছে ধীরাশ্রম আইসিডি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকেই জানানো হয়, এ প্রকল্পে এডিবি ছাড়াও ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং চায়না বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সূত্র জানায়, আইসিডি নির্মাণে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবটি তুলনামূলক সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। দুবাইয়ের রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করলেও তারা ধীরাশ্রমে প্রস্তাবিত আইসিডির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং এদের সঙ্গে অটোমেশনের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনসহ বন্দর সুবিধা উন্নতিকরণের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন পিপিপি কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, ধীরাশ্রম আইসিডি প্রকল্পটির বিষয়ে এডিবিসহ একাধিক দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখন আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের কাছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কৌশলগত ও আর্থিক বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব চাওয়া হবে। এ বিষয়ে নৌপরিবহন, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে প্রথম গাজীপুরের ধীরাশ্রমে আইসিডি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে রেলওয়ে। কমলাপুর আইসিডির ওপর চাপ কমাতে তখন গাজীপুরের পুবাইল রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে প্রায় ১৩৬ দশমিক ৫ একর জমির ওপর ধীরাশ্রম আইসিডি স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত ছিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব অর্থাৎ পিপিপি ভিত্তিতে নির্মিত হবে এটি। তবে অর্থায়নকারী না পাওয়ায় গত এক যুগেও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার এনে রাখা হয় ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে। এটি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে গুরুত্বপূর্ণ ঘন জনবসতি ও ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত। প্রধানতম রেলস্টেশন এবং যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় এই অঞ্চল নিয়ে ভবিষ্যতে এখানে ‘মাল্টি মোডাল কম্যুনিকেশন হাব’ তৈরির পরিকল্পনা আছে সরকারের। এরই মধ্যে দেশের মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের লাইন কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশের কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে কমলাপুর রেল স্টেশন স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে করে পার্শ্ববর্তী ঢাকা আইসিডির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলে পরিবহনকৃত কনটেইনার রাখার জন্য বিকল্প আইসিডি জরুরি হয়ে পড়েছে। অগ্রাধিকার তালিকায় চলে এসেছে ধীরাশ্রম আইসিডি প্রকল্প। এ অবস্থায় ধীরাশ্রমের প্রস্তাবিত কনটেইনার ডিপোকে আরও বৃহত্তর পরিসরে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ধীরাশ্রমে আইসিডি নির্মিত হলে রাজধানীতে প্রবেশ না করেই কনটেইনার বহনকারী ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট চালু হলে ওই দেশগুলো থেকে আনা কনটেইনার রাখা যাবে এ আইসিডিতে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু নির্মাণের পর ঢাকা-মোংলা রুটে কনটেইনারবাহী ট্রেন পরিচালনা করা যাবে। চট্টগ্রাম বা মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল কনটেইনার পরিবহন করতে আর ঢাকায় প্রবেশ করতে হবে না। ধীরাশ্রম আইসিডিই হবে সারা দেশের এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার ডিপো।