মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

এলএসডিতে সক্রিয় ১৫ চক্র রিমান্ডে ৮ জন

আলী আজম

ভয়ংকর মাদক লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড (এলএসডি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মাদকটিকে লাস্ট স্টেট অব ড্রাগও বলা হয়ে থাকে। ৫০-এর দশকে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হতো এলএসডি। কিছুদিন পর ভয়াবহতা দেখে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। বৈধ ব্যবহার এখন আর নেই। যারা মাদক হিসেবে এটি ব্যবহার করেছে, তাদের শেষ গন্তব্য অকাল মৃত্যু। তবে হ্যালুসিলেশন, উদ্বিগ্নতা, হতাশায়   নিমজ্জিত হওয়া এর বৈশিষ্ট্য। চোখ বন্ধ করেও যেন এরা দেখতে পায়। পুলিশ ও গোয়েন্দারা জানান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এলএসডি মাদক পুরনো হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে সম্প্রতি। এ পর্যন্ত তিনটি চালান ধরা পড়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন নয়জন। তারা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত কয়েক বছর ধরে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত তরুণরা ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এলএসডি মাদক এনে বিক্রি করছে। নিতান্তই কৌতূহল নিয়ে ভয়ংকর মাদক এলএসডি অনেকে সেবন করছেন। এলএসডি সেবনকারী একের পর এক ঘটাতে থাকেন অপরাধ। আসক্তির সময় অন্যের বা নিজের ক্ষতি করা, রক্তারক্তি করার কথা মাদকের প্রভাব কেটে যাওয়ার পরও মনে করতে পারেন না। সম্প্রতি এলএসডি সেবন করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান। অভিভাবকরা আসক্তির কথা বুঝতে পেরে স্মরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। কিন্তু সন্তান যে এলএসডি মাদকে আসক্ত তা আন্দাজও করেননি। সেই আসক্তি থেকে বের হতে না পেরে হাফিজের মৃত্যু ঘটে। হাফিজের মৃত্যুর কারণ তদন্তে গিয়ে ভয়াবহ এই মাদক সেবনের তথ্য পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপরই শুরু হয় এলএসডির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান। গত ২৬ মে রাজধানীর লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি থেকে সাদমান সাকিব রুপল, আসহাব ওয়াদুদ তূর্য ও আদিব আশরাফ নামে হাফিজুরের তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করে ডিবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০০ ব্লট ভয়ংকর এলএসডি উদ্ধার করা হয়। তারা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়। গত ৩০ মে তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি বলছে, এলএসডি সেবন করেছিলেন হাফিজ। তারপরই বিভ্রম ঘটায় নিজেই নিজেকে হত্যা করেন তিনি। গ্রেফতার তিনজন নেদারল্যান্ড থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভয়ংকর মাদক এলএসডি দেশে আনতেন। তারা ‘আপনার আব্বা’ এবং ‘বেটার ব্রাউনি অ্যান্ড বেয়ন্ড’ নামে দুটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে এলএসডি মাদক বিক্রি করতেন।

এলএসডির প্রতিটি ব্লট ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কেনা হলে তা ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। গত ২৯ মে রাজধানীর মালিবাগ ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এলএসডির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন- সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফ, এস এম মনওয়ার আকিব ওরফে আনান, মো. নাজমুস সাকিব, নাজমুল ইসলাম ও বি এম সিরাজুল ইসলাম সালেকীন ওরফে তপু।