ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার বাজার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটা শুধু বন্যপ্রাণী পাচার ঠেকাতে ব্যর্থই হচ্ছে না, বরং বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক আয় ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অবৈধ ব্যবসাকে উৎসাহিত করছে।
সোমবার প্রকাশিত পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) যৌথভাবে এ দাবি করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীজাত পণ্যের ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে বিপন্ন প্রাণী কেনাবেচা নিষিদ্ধ বলে দাবি করে, তবে পরিবেশবিদদের মতে, বাস্তবে সেই নীতিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।
ফেসবুক-ইনস্টায় প্রকাশ্যেই বিপন্ন প্রাণী বিক্রি
গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত বন্যপ্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্যের বেচাকেনা চলছে। তদন্তকারীরা জানান, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পোষা প্রাণী হিসেবে শিম্পাঞ্জি, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরির জন্য গণ্ডারের শিং এবং খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিপন্ন বনরুইসহ বিভিন্ন সংরক্ষিত প্রাণী প্রকাশ্যেই বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা পোস্টে কোনো দাম উল্লেখ না করে আগ্রহীদের সরাসরি ব্যক্তিগত বার্তায় যোগাযোগ করতে বলেন।
বন্যপ্রাণী পাচারবিষয়ক স্বাধীন তদন্তকারী ড্যানিয়েল স্টাইলস বলেন, মেটার কনটেন্ট মনিটাইজেশন ও সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা এই অপরাধকে আরও লাভজনক করে তুলছে। কারণ, কোনো অ্যাকাউন্টে যত বেশি মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়, তত বেশি অর্থ আয় করা সম্ভব হয়। তদন্তে লাওসভিত্তিক একটি সাবস্ক্রিপশন অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে বনরুই শিকারের ভিডিও দেখিয়ে অর্থ উপার্জনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অ্যালগরিদমেই ছড়াচ্ছে অবৈধ ব্যবসা
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মেটার অ্যালগরিদম এই অবৈধ বাণিজ্য ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কোনো ব্যবহারকারী একবার বন্যপ্রাণী কেনাবেচাসংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে, তার ফেসবুক ফিডে একই ধরনের আরও পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো শুরু হয়।
‘জিআই-টিওসি’র ডেটা বিজ্ঞানী রাসেল গ্রে জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি এমন বিজ্ঞাপন শনাক্ত করে মেটাকে রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপ এখনো আগের মতোই সচল রয়েছে।
এদিকে মেটাসহ ১১টি প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে বন্যপ্রাণী পাচার নির্মূলের নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, এসব ঘোষণা বাস্তব পদক্ষেপের তুলনায় কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। বন্যপ্রাণী পাচার রোধে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ফ্রিল্যান্ড’-এর প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ গ্যালস্টার বলেছেন, ২০১৮ সাল থেকে অনলাইনে বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক জোটের সদস্য হয়েছে মেটা। কিন্তু এই অপরাধ তারা কার্যকরভাবে দমন করতে পারেনি। তার মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই অবৈধ ব্যবসা থেকে পরোক্ষভাবে মুনাফা অর্জন বন্ধে বাধ্য করা না গেলে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।
সূত্র: দ্য স্ট্রেইট টাইমস, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর
বিডি-প্রতিদিন/এমই