শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০১৪ ০০:০০
প্রিন্ট করুন printer

ধর্ম

আলেম-ওলামাদের মজলিসের ফজিলত

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

আলেম-ওলামাদের মজলিসের ফজিলত

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'যখন তোমরা জান্নাতের টুকরার পাশ দিয়ে যাবে তখন তা থেকে কিছু আরোহণ করে নিও।' তারা বললেন, 'জান্নাতের বাগিচা কোনটি?' তিনি বললেন, 'ইলমের মজলিস।' আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, লোকমান হাকিম তার ছেলেকে বলেন, 'হে বৎস! তুমি আলেম-ওলামাদের মজলিসে বসবে, জ্ঞানীদের কাছ থেকে হিকমতের কথা শুনবে। মহান আল্লাহ হিকমতের আলোতে মৃত অন্তরকে পুনর্জীবিত করেন যেমন বৃষ্টির পানিতে মাটি পুনর্জীবিত হয়ে থাকে।' ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রসুল। আমাদের কোন মজলিস সবচেয়ে কল্যাণকর? তিনি বললেন, 'যাদের দেখলে তোমাদের আল্লাহকে স্মরণ হবে, যাদের কথা তোমাদের জ্ঞানের পরিধিকে বৃদ্ধি করবে এবং যার আমল তোমাদের পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।' তাই একজন দীনদার পরহেজগার, সত্যবাদী ভাইকে সাথী বানিয়ে নিতে হবে যে তাকে তার ভুল ধরিয়ে দিবে, বিপদে সাহায্য করবে, ভুলে গেলে স্মরণ করিয়ে দিবে। আর এটি হলো ইসলামী ভ্রাতৃত্বেরই বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) রসুুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেন, 'তুমি কেবল দীনদার ব্যক্তির সঙ্গ গ্রহণ করবে, আর তোমার খাবার যেন খোদাভীরু লোকেই কেবল খায়।' হজরত ওমর ফারুক (রা.)-এর মর্যাদা অনেক বেশি এবং তিনি এ দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের অন্যতম। এরপরও তিনি সর্বদা বলতেন, 'আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে আমার ভুল ধরিয়ে দেয়।' তিনি রসুল (সা.)-এর গোপন তথ্য জানা বিশিষ্ট সাহাবী হুজায়ফা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করতেন, রসুল (সা.) গোপন তথ্য আমার নাম মুনাফিকদের নামের তালিকায় বলেছেন বা আমার মাঝে কি মুনাফেকির কোনো কিছু রয়েছে।'

অন্যের দোষ দেখে নিজের দোষত্রুটি জেনে তা দূর করা আমাদের কর্তব্য হওয়া উচিত। লোকদের মধ্যে কোনো কিছু খারাপ দেখলে নিজেকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ.)-কে বলা হয়েছিল, 'আপনাকে কে আদব-কায়দা (শিষ্টাচার) শিক্ষা দিয়েছেন?' তিনি বলেন, 'কেউ শিক্ষা দেয়নি। আমি অজ্ঞতার কদর্যতা দেখে তা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছি।'

লেখক : খতিব, বাইতুল মুমিন জামে মসজিদ, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

 

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর