Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২৩:২১

দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে চ্যালেঞ্জ বিদায়ী ইসির

গোলাম রাব্বানী

দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে চ্যালেঞ্জ বিদায়ী ইসির

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিদায়ী নির্বাচন কমিশন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিদায়ের আগে এই দুই সিটি নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ করা যাবে তা নিয়ে অনেকটাই চিন্তিত নির্বাচন কমিশনাররা। সদ্যসমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি-অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর এই দুই সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ভোট অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এদিকে আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোট গ্রহণের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেরও প্রস্তুতি রাখছে ইসি। যদিও এই সিটির নির্বাচন নিয়ে কিছুটা আইনি জটিলতার কথা বলছে ইসির আইন শাখা। সব মিলিয়ে চলতি মাসের ১২ তারিখের মধ্যে এই দুই সিটি নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনি জটিলতার কারণে  কুমিল্লা নির্বাচন অনুষ্ঠান না হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। এ ছাড়া দলীয় ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রথম নির্বাচন আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে থাকা বিধিমালার অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন— দুই সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কেননা এই নির্বাচন ভালো করার সঙ্গে আমাদের সম্মান জড়িয়ে আছে। তাই বিদায়ের আগে এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছি বলে মন্তব্য করেন তিনি।  ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৮ ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ ভোট হবে। ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সেই হিসেবে ইসি সচিবালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া আইন অনুযায়ী এ বছরের ২৯ জুন থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ১২ আগস্ট থেকে কুমিল্লা সিটিতে  ভোট অনুষ্ঠানের দিন গণনা শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোটের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগোচ্ছে।  সেক্ষেত্রে নভেম্বরের দ্বিতীয়-তৃতীয় সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তফসিল ঘোষণার আগে এই সপ্তাহে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হচ্ছে। তারা বলেন, ইতিমধ্যে কুমিল্লা সিটির মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সীমানা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। এ নিয়ে আইনি জটিলতার শঙ্কাও রয়েছে। তবে এই সিটিতেও ভোট অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ইসি।  জানা গেছে, দলীয় ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রথম নির্বাচন আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের  ভেটিংসহ বিধিমালার অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, আমরা এখন নির্বাচনবিধি ও আচরণবিধির অপেক্ষায় রয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন  পেলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। ভোটের জন্য একটি খসড়া তালিকা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোটের তারিখ নির্ধারণে কমিশন বৈঠক হবে। এ বিষয়ে ইসির যুগ্ম সচিব (আইন) ড. মো. শাহ্জাহান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে বিধিমালার বিষয়ে। তবে কুমিল্লার আইনি জটিলতার বিষয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, কমিশন বৈঠক করে তফসিল ও ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে জটিলতা : নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে সীমানাসংক্রান্ত প্রস্তাবিত নতুন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল হাইকোর্টের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনে এসে পৌঁছেছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি দেখবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর