শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:১৩

ফেলনা দিয়ে খেলনা

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে চমক

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

ফেলনা দিয়ে খেলনা

অমিত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। হাতছানি দিচ্ছে সোনালি ভবিষ্যৎ। একের পর এক সাফল্যে বিশ্বব্যাপী বিস্ময়ের নাম এখন বাংলাদেশ। এই সম্ভাবনার দেশে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ফেলনা দিয়ে তৈরি খেলনার নাম। যেমন কুকুর বিড়ালের খেলনা অথবা এর লালন-পালন কাজে ব্যবহার করা বিভিন্ন বস্তু থেকে আয় হচ্ছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ফেলনা থেকে খেলনা প্রস্তুত করেই নয়, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে কর্মসংস্থান হয়েছে দেড় শতাধিক বেকার নারী-পুরুষের। যাদের হাত দিয়ে বানানো পণ্য এখন দেশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে জাপান অথবা চীনের মতো দেশে। এ পণ্য রপ্তানিতে এখন নতুন করে কথা চালাচালি হচ্ছে আমেরিকা-কানাডার  মতো উন্নত দেশের সঙ্গেও। জানা গেছে, ২০১৩ সালের শেষের দিকে ময়মনসিংহের ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের কাচিনা গ্রামে গড়ে ওঠে শীন ট্রেডিং। সে সময় মাত্র পাঁচজন শ্রমিক নিয়ে শুরু করলেও আজ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড়শতে। যার বেশিরভাগই নারী। এসব শ্রমিকের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় সেখানে তৈরি হচ্ছে কটন বল, কটন স্টিক, স্কয়ার এবং রাউন্ড র‍্যাবিট হাউসসহ প্রায় ৬৫ রকম পণ্য। দেশে এগুলো অনেকটা অপরিচিত হলেও উন্নত বিশ্বে কুকুর বিড়ালের জন্য রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

গত বৃহস্পতিবার টিনশেড দিয়ে তৈরি শীন ট্রেডিংয়ে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, একদল নারী শ্রমিক বিশাল কর্মযজ্ঞে মগ্ন। তারা কেউই দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না। তাদের কারও হাতে মহিষের শিং, গরুর হাড়, পশুর চামড়া, ছন, তালপাতা, পাট, কাগজ, সুতা, নারকেলের ছোবড়া, ধুন্দল, হোগলা পাতাসহ নানান রকমের ফেলনা বস্তু। যেগুলো দিয়ে তৈরি হচ্ছে পেট অ্যানিমেলের খেলনা অথবা ব্যবহূত জিনিসপত্র। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৩ সালে প্রথমে নিজের ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে জাপানে একটি আইটেম পণ্য রপ্তানি করে স্বপ্ন পূরণ করেন শহীদুল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত জাপানে নিয়ম করে পণ্য যাচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। তার এমন উদ্যোগে শুরুর দিকে স্থানীয়রা হাসাহাসি করলেও শহীদুল এখন দেশসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। গত ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু সন্মেলন কেন্দ্রে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় দেশসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুরস্কার। ফ্যাক্টরিটির ব্যবস্থাপক ইলিয়াস আহমেদ জানান, এরই মধ্যে এক কন্টেইনার পণ্য রপ্তানি হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা দেশ চীনে। আর প্রতি মাসে জাপানে দুই থেকে পাঁচ কন্টেইনার পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। শুধু জাপান এবং চীনই নয়- পণ্য রপ্তানির বিষয়ে এখন আলাপচারিতা চলছে আমেরিকা, কানাডার মতো উন্নত দেশের সঙ্গেও। জানতে চাইলে দেশসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শহীদুল ইসলাম ফকির বলেন, আমার ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত পণ্যের সব কাঁচামালই দেশীয়। যা সমাজের ফেলনা অথবা উচ্ছিষ্ট পণ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। সেগুলোকেই আমি কাজে লাগিয়ে ২০১৩ সালে প্রথম পণ্যের নমুনা বানিয়ে জাপানে পাঠাই। নমুনা দেখে তারা আমাকে সেসব পণ্য সরবরাহ করার অনুমতি দেয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত শতভাগ পণ্য জাপানসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। আমার উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য এখন শোভা পাচ্ছে জাপানের বড় বড় শপিং মলে। তিনি জানান, শুরুর দিকে অদম্য ইচ্ছা আর সাহসই ছিল তার প্রথম পুঁজি। সে সময় তার কর্মকাণ্ডে আশপাশের লোকজন হাসাহাসি করলেও তারাই এখন তাকে নিয়ে গর্ব করেন। শহীদুল বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে একদিন ক্ষুদ্র এ শিল্পকে বৃহৎ এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

 


আপনার মন্তব্য