সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা

যমুনায় রেল সেতু আগামী বছর

নিজামুল হক বিপুল

অবশেষে যমুনা নদীতে রেল সেতু নির্মাণ হচ্ছে। আগামী বছরের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বৃহৎ এই প্রকল্পের। এখন চলছে বিশদ নকশা তৈরি, সম্ভাব্যতা যাচাই, স্টাডি আপডেট, টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরির কাজ। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যমুনা নদীতে রেল সেতু নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে। রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেললাইন না থাকায় প্রথম দিকে এ নিয়ে বেশ হইচই হয়। পরবর্তীতে অনেকটা নকশা বহির্ভূতভাবেই রেললাইন সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু এই সেতু দিয়ে বেশ ঝুঁকি নিয়েই কয়েক বছর ধরে চলছে ট্রেন। এ অবস্থায় উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলো এবং ভারতের সঙ্গে সারা দেশের রেল সংযোগ সহজ ও নিরবচ্ছিন্ন করতে এই সেতুর পশ্চিম পাশেই যমুনা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সে লক্ষ্যে ২০১৫ সালেই রেল সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শেষ করা হয়। রেল মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যমুনা নদীতে রেল সেতু নির্মাণের জন্য গত বছর এপ্রিলে এই সেতুর বিশদ নকশা তৈরি, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আপডেট এবং দরপত্র ডকুমেন্ট তৈরির জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্ট গ্লোবাল লিমিটেডকে ৭৪৭ কোটি টাকায় নিয়োগ করা হয় এই প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপরই দরপত্র আহ্বান করা হবে এই সেতু নির্মাণে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এখন দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্পের বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানা গেছে। প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, যমুনা রেল সেতু নির্মাণ করা হবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা) ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে নয় হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা দেবে সাত হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। আর সরকার এই প্রকল্পে অর্থায়ন করবে ২ হাজার ১০ কোটি টাকা। যমুনা নদীর ওপর এই রেল হবে ডুয়েল গেজের এবং ডাবল লাইনের। এর ফলে এক সঙ্গে দুটি ট্রেন দুই প্রান্ত থেকে সেতু পার হতে পারবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বিশদ নকশা পাওয়ার পর আগামী সেপ্টেম্বরেই যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপর ২০১৯ সালের জুনের মধ্যেই দরপত্র যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত করা হবে। আগামী বছরের শেষের দিকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে যমুনা রেল সেতুর। ২০২৩ সালে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং ট্রেন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।