শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১০

কৃষিতে সমৃদ্ধ হবে হাওর

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

কৃষিতে সমৃদ্ধ হবে হাওর

দেশের পূর্ব-উত্তরাংশে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট ও মৌলভীবাজারের ৫৭টি উপজেলা নিয়ে হাওর এলাকা গঠিত। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে ৩৭৩টি হাওর, ৬ হাজারের বেশি বিল, ৩৬ হাজারের বেশি পুকুর, ডোবা, নালা ও খাড়ি। আর এসব এলাকায় ৭ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি থাকলেও বছরে মাত্র একবার সেই ফসল ঘরে তুলতে পারছেন কৃষক। অন্যদিকে হাওরাঞ্চল বাদ দিলে কৃষির আধুনিকায়নের ফলে অধিকাংশ জমিই তিন ফসলে পরিণত হয়েছে। মোদ্দা কথা, গোটা হওরাঞ্চলই রয়েছে কৃষির আধুনিকায়নের বাইরে। তবে আশার কথা, হাওরাঞ্চলেও এখন লাগছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। নেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ১ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ‘হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছেন। শুধু বাকৃবিতেই নয়, কিশোরগঞ্জেও একটি বহিরাঙ্গণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। মাঠ পর্যায়ের কাজ মূলত সেখানেই হবে। এই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে হাওরের কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, পোস্ট হার্ভেস্ট টেকনোলজি, বন, পরিবেশ, মার্কেটিং, গ্রাম্য আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। সেই সঙ্গে দেশে কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণ ও উদ্বুদ্ধকরণে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইনস্টিটিউট সূত্র বলছে, প্রায় ৮ হাজার বর্গ কিমি আয়তনের হাওর এলাকায় ৭ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমি থেকে বছরে প্রায় ৫২ লাখ ৩০ হাজার টন ধান উৎপাদিত হয়। হাওরে শস্যনিবিড়তা ১৪৭ শতাংশ। জিডিপিতে হাওরের অবদান ০৩% এবং এর ২৫% আসে কৃষি থেকে। আগাম বন্যায় বছরে ক্ষতি হচ্ছে ৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩৫ লাখ। এ ক্ষতি জাতীয় কৃষির প্রায় ৩ শতাংশ। হাওরে ৩ ভাগ লোক ভূমিহীন। কিন্তু ৮১ ভাগ অকৃষিজীবীর কোনো কৃষিজমি নেই। সেসব এলাকায় বছরে কৃষিজমি কমছে ০.৩৩ শতাংশ হারে। হাওর এলাকায় ৩৪ ভাগ পরিবার প্রান্তিক কৃষক, ৫ ভাগ পরিবার জাতীয় লেভেলের নিচে, ৫১ ভাগ পরিবার ক্ষুদ্র কৃষক ও ২৮ ভাগ লোক অতিদরিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আবদুর রহমান সরকার বলেন, এসব হাওরের গতিপ্রকৃতি, পরিবেশ ঠিক রেখে এবং ধ্বংস না করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোই এ ইনস্টিটিউটের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, হাওরের অমিত সম্ভাবনাময় কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, জলজ বন, খামার যান্ত্রিকীকরণ, পরিবেশ ও প্রতিবেশের বিভিন্ন সমস্যা গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে এ ইনস্টিটিউট। বাকৃবির ভিসি প্রফেসর ড. আলী আকবর বলেন, এ ইনস্টিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদই জড়িত থাকবে। এ ছাড়া এখান থেকে একাডেমিক ডিগ্রিও দেওয়া হবে, যেখানে থাকবে অনার্স, মাস্টার্স, পিএইচডি ডিগ্রি। হাওর ভূমিপুত্র প্রয়াত ড. নিয়াজ পাশা ২০১৩ সালে হাওর এলাকা উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে একটি প্রস্তাব দেন। মূলত তার এ প্রস্তাব থেকেই দেশে প্রথমবারের মতো হাওরাঞ্চল উন্নয়নের জন্য ইনস্টিটিউট হতে যাচ্ছে।

তবে প্রয়াত এই কৃষিবিজ্ঞানী তৎকালে এর নাম দিয়েছিলেন ‘হাওর কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’।


আপনার মন্তব্য