Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৮

মধ্য জানুয়ারি থেকে তিস্তা ব্যারাজের সেচ কার্যক্রম

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

মধ্য জানুয়ারি থেকে তিস্তা ব্যারাজের সেচ কার্যক্রম

চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প সেচ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি সেচ প্রকল্পটির কমান্ড এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেচ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরে ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান প্রদানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে উজানের জোয়ারে তিস্তা পানি প্রবাহ ছিল গতকাল পর্যন্ত পাঁচ হাজার কিউসেক। নদী অববাহিকার জেলে ও নৌকা মাঝিরা জানান, নদীতে ভালোই পানি আসছে। শুষ্ক মৌসুমে উজান হতে পানি প্রাপ্তিতায় নদীজুড়ে রয়েছে স্রোতধারা। চলছে নৌকা, জেলেরা ধরছে মাছ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক পক্ষকাল হতে নদীতে পানির গড় হিসাব ছিল দেড় হাজার কিউসেক, যা গত বুধবার হতে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার কিউসেক।

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারেজ থেকে আগামী ১৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সেচ প্রদান শুরু করা হবে। সেচে প্রদানের কমান্ড এলাকা তৈরি রয়েছে ৭৯ হাজার হেক্টর। উজানের পানি প্রাপ্তিতার ওপর নির্ভর করবে আমরা কতখানি এলাকায় সেচ দিতে পারি। তিনি বলেন, এরপরেও চলতি মৌসুমে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট জেলার ২ হাজার হেক্টর, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা ৫ হাজার হেক্টর, জলঢাকা উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর ও নীলফামারী জেলা সদরে ৭ হাজার হেক্টর, কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর, সৈয়দপুর উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর, রংপুর জেলার গঙ্গাচরা উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর ও দিনাজপুর জেলার খানসামা এবং চিরিরবন্দর উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর। তিনি আরও জানান, বর্তমানে নদীতে উজানের পানির যে জোয়ার রয়েছে এই জোয়ার অব্যাহত থাকলে আমরা ৫০ হাজার হেক্টর জমি পর্যন্ত সেচ দিতে সক্ষম হব। পানির জোয়ার আরও বৃদ্ধি পেলে কমান্ড এলাকার ৭৯ হাজার হেক্টর জমি সেচ পেয়েও যেতে পারে।

সূত্র মতে, তিস্তায় যখন পূর্ণমাত্রায় পানি আসত তখন শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৬৫-৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হতো। সাধারণভাবে ধান চাষ করলে যে ব্যয় হয়, সেচ প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে সেই ধান চাষ করলে ব্যয় হয় ২০ ভাগের ১ ভাগ। এ ছাড়া ধানের ফলনও হয় বাম্পার। বৃহত্তর রংপুরের মঙ্গা দূরীকরণে তিস্তা সেচ প্রকল্প অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। উত্তরের জীবনের জন্য তিস্তার পানির কোনো বিকল্প নেই। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তায় এবার উজানের জোয়ার ভালোই রয়েছে। এই জোয়ার অব্যাহত থাকলে আমরা টার্গেটের বেশি জমিতে সেচ দিতে পারব।


আপনার মন্তব্য