শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪২

কৃষি

আশার আলো তুলা চাষে

শফিক জামান, জামালপুর

আশার আলো তুলা চাষে

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরভূমিতে তুলা চাষ আশার আলো দেখাচ্ছে জামালপুরের চরাঞ্চলের কৃষকদের। চরের প্রায় অনাবাদী জমিতে অন্য ফসল চাষ করে খরচ উঠানোই যেখানে কষ্টসাধ্য ছিল সেসব জমিতে তুলা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ফলে চরাঞ্চলগুলোতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলা চাষ। যমুনা ও ব্র?হ্মপুত্র নদের চরের শুষ্ক ভূমিতে ধান ফলানো কঠিন। আখ, পাট, সরিষা, কলাইসহ অন্য ফসল করেও খুব একটা লাভের মুখ দেখা যায় না। প্রায় অনাবাদী সেই জমিতে তুলা চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ফলে তুলা চাষের প্রতি ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছে কৃষকরা। এ ছাড়া তুলা ক্ষেতে কাজ করে দু’পয়সার মুখ দেখছে গ্রামের দরিদ্র নারী শ্রমিকরা।

জামালপুরে সদরের পাথালিয়ার নাওভাঙ্গা চরের তুলাচাষী লোকমান হাকিম জানান, চরের জমিতে আখ, পাটসহ অন্য ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখতে না পেরে এক যুগ আগে তুলা চাষ শুরু করেন। এরপর থেকে আর লোকসানে পড়তে হয়নি। এ বছরও তিনি ৭ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের তুলা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। আর প্রতিবিঘা জমিতে তিনি তুলা বিক্রি করতে পারবেন প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকা। কৃষক খোরশেদ আলম জানান, এবার ২ বিঘা জমিতে তুলা আবাদ করতে তার খরচ হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা।

 তিনি ৩০ হাজার টাকার তুলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তুলাচাষী সাত্তার জানান, তুলা চাষের খরচ কম। আর তুলা উন্নয়ন বোর্ড থেকে মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় বলে তুলার বাজার নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয় না। জামালপুর তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জামালপুর জেলায় ২২৫ হেক্টর জমিতে সিবি ১২, সিবি ১৪, সিবি হাইব্রিড ১, রুপালি ১ ও ডিএম ৩ জাতের তুলার চাষ হয়েছে। দাম ভালো থাকায় এবার তুলা চাষিরা বেশ লাভের মুখ দেখবে বলে আশা করছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা। এ বছর তুলা উন্নয়ন বোর্ড প্রতিমণ তুলার দাম নির্ধারণ করেছে ২ হাজার ৫শ’ টাকা। তুলা চাষ করতে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের গড়ে খরচ হয় ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। আর জাত ভেদে বিঘা প্রতি তুলার ফলন পাওয়া যায় ৮ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত। জেলা তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বোর্ড  চাষের শুরু থেকে বাজারজাত পর্যন্ত চাষিদের সবধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তুলার উৎপাদন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি দাম ভালো থাকায় চাষিরা বেশ লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জেলায়  চরাঞ্চলে অনাবাদী খাস জমি রয়েছে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি। খাস ভূমিগুলো সরকার তুলা চাষীদের নামে বরাদ্দ দিলে উৎপাদন যেমন বাড়বে তেমনি তুলা চাষ করে চাষীরাও বেশ লাভবান হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর