শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ মে, ২০১৯ ২৩:২৫

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা

জনবল সংকটে সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

জনবল সংকটে সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা

জনবল সংকটের কারণে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রোগীরা এসে সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও  বলছে, ১০০ শয্যার অপর্যাপ্ত জনবল কাঠামো দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করতে গিয়ে রীতিমতো হাঁফিয়ে উঠতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রারম্ভিক অবস্থায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালটি ৫০ শয্যার ছিল। পরবর্তীতে এটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যার ঘোষণা দেন। কিন্তু শয্যার সংখ্যা বাড়লেও জনবল বাড়ানো হয়নি। এর পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যা লেগেই আছে। সূত্র মতে, ১০০ শয্যা হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৪২ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ১২ জন। চিকিৎসকের শূন্য পদ রয়েছে ৩০টি। দ্বিতীয় শ্রেণির ১৬৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৫৫ জন। এখানে শূন্য পদের সংখ্যা ১২টি। তৃতীয় শ্রেণির ২৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১০ জন। এখানে শূন্য পদের সংখ্যা ১৮টি। চতুর্থ শ্রেণির ২৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১০ জন। সেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ১৮টি। সবমিলে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮টি। আইনি জটিলতার কারণে এই ৭৮টি শূন্যপদের নিয়োগ কার্যক্রম থমকে আছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জনবল কাঠামো মঞ্জুরীর ফাইলটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। হাসপাতালে অর্থপেডিক চিকিৎসক থাকলেও এক্স এআরএম মেশিন নেই। ফলে হাড়ভাঙা রোগীদের জটিল অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। অপর একটি সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য নতুন একটি ৮তলা ভবন ২০১৬ সালে হস্তান্তরের কথা থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলাতির কারণে নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে এসে স্থবির হয়ে আছে। ফলে ১০০ শয্যার অবকাঠোমার হাসপাতালে গাদাগাদি করে ২৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. অমিত কুমার বসু জানান, ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করা রীতিমতো অসম্ভব। সেই ১০০ শয্যার জনবলের মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সসহ ৭৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়াও অবকাঠামোগত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় রোগীদেরকে বারান্দায় ঠাসাঠাসি করে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সৃষ্ট এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. অমিত কুমার বসু জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালের নতুন ভবনটি হস্তান্তরসহ জনবল নিয়োগের কার্যক্রম ত্বরিত গতিতে সম্পন্নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. এস, এম আমিনুল ইসলাম বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে চিকিৎসক সঙ্কট দূর হবে। আগামী ১ মাসের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের দোদুল্যমানতাও দূর হবে।


আপনার মন্তব্য