Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০১৯ ২২:৫৯

অযত্নে মরছে ফুটওভার ব্রিজের গাছগুলো

শামীম আহমেদ

অযত্নে মরছে ফুটওভার ব্রিজের গাছগুলো

নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজ ঢাকা গড়ার অংশ হিসেবে তিন বছর আগে ঢাকার ফুটওভার ব্রিজগুলোয় দৃষ্টিনন্দন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন দুই সিটির দুই মেয়র। ফলে ফুটওভার ব্রিজগুলো ছেয়ে যায় সবুজ পাতা ও বাহারি বাগানবিলাস ফুলে। তিন বছরের মাথায় এসে সেই চিত্র এখন অতীত। বসন্ত আসতেই মাথার ওপরে টবে লাগানো যে গাছগুলো ফুলে ফুলে ঢেকে যেত, অযত্ন -অবহেলায় সেগুলো এখন শুধুই মৃত গুল্ম। মারা গেছে অধিকাংশ গাছ। যে কয়েকটি ওভার ব্রিজের গুটিকয় গাছ বেঁচে আছে তাও মৃত্যুর ক্ষণ গুনছে। গত দুই দিন নগরী ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীনে রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংকরোড সংলগ্ন গুদারাঘাটের ফুটওভার ব্রিজটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়েও ছিল সবুজে ঢাকা। গতকাল দেখা যায় বড় বড় প্লাস্টিকের টবে দাঁড়িয়ে আছে পাতাহীন শুকনো গাছ। ভাটারা থানার কাছে নতুন বাজার ওভার ব্রিজে লাগানো অধিকাংশ গাছ শুকিয়ে গেছে। নেই কোনো পাতা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাহাঙ্গীর গেটের মাঝের ওভার ব্রিজটির গাছগুলোও বেঁচে নেই। অপরদিকে দক্ষিণ সিটির অধীনে মতিঝিল শাপলা চত্বরের ওভার ব্রিজের গাছগুলো জীবিত দেখা গেলেও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের ওভার ব্রিজটির ২৪টি টবের সব গাছই শুকিয়ে গেছে। কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ওভার ব্রিজের ৩৮টি টবের অর্ধেক গাছই এখন মৃত। শিশুপার্কের সামনের ওভার ব্রিজেরও অনেক টবের গাছ মরে গেছে। এসব গাছের পরিচর্যায় প্রতিটি ওভার ব্রিজে একজন করে মালি থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় দোকানদাররা জানান, গত এক বছরে এমন কাউকে তাদের নজরে পড়েনি। ডিএনসিসিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাছ রোপণের পর এক বছর তা দেখভাল করার কথা ঠিকাদারের। সেই হিসেবে গত বছরের মাঝামাঝি গাছগুলো বুঝে নিয়ে নিজেদের কর্মী দিয়ে তা দেখভাল করার কথা সিটি করপোরেশনের। কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে গাছগুলো পরিচর্যার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দিনের পর দিন পানি না দেওয়ায় মারা গেছে অধিকাংশ গাছ। এখন আবার টবের মাটি বদলানো ও নতুন করে গাছ লাগানোর জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ডিএনসিসি।

জানতে চাইলে ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. তারেক বিন ইউসুফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ৪০ ভাগ জনবল নিয়ে ডিএনসিসি চলছে। এত কম জনবল দিয়ে সবকিছু দেখভাল করা কঠিন। এ ছাড়া টবে লাগানোর জন্য গাছ বাছাইও ঠিক ছিল কিনা সেটা এখন বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, তিন বছর আগে কেইস প্রকল্পের আওতায় দুই সিটির ফুটওভার ব্রিজগুলো সবুজে ঢেকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রাজধানীর ১১৭টি ফুটওভার ব্রিজের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে ৫৭টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ও ৬০টি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। গাছ লাগানো শুরু হয়। উত্তর সিটির অর্ধশতাধিক ফুটওভার ব্রিজে চার হাজারের মতো গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। ৩৪টি ওভার ব্রিজে গাছ লাগানো হয়। মেয়রের মৃত্যুর পর সেই সংখ্যা আর বাড়েনি। যে কটিতে লাগানো হয় তার অধিকাংশের গাছই মৃতপ্রায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর