Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪৮

দেশে শিক্ষিত বেকারই বেশি

২০১৭ সালে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিবছর উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী।

শামীম আহমেদ

দেশে শিক্ষিত বেকারই বেশি

বাড়ছে শিক্ষার হার। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। প্রতিবছর যতসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে শ্রমবাজারে পা রাখছেন, সেই হারে সৃষ্টি হচ্ছে না কর্মসংস্থান। সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা এবং প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষতা অর্জিত না হওয়ায় এসব শিক্ষিতরা উদ্যোক্তা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ঘটাতে পারছেন না। আবার উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর যে কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতেও কুণ্ঠাবোধ করছেন তারা। ফলে ক্রমেই বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। রাষ্ট্র দক্ষ জনসম্পদ গড়তে শিক্ষার পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও এসব শিক্ষিত যুবসমাজ পরিবার ও দেশের কোনো কাজেই আসতে পারছে না। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ কাতারে। আর গড় বেকারত্বের তুলনায় শিক্ষিত বেকারের হার এ দেশে দ্বিগুণেরও বেশি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ দেশে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষা অর্জন করছেন ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে শুধু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে (ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১২টি অধিভুক্ত ও অঙ্গীভূত কলেজের শিক্ষার্থী ব্যতীত) ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর পর্যায়সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন শিক্ষার্থী। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে বের হন ৭১ হাজার ৯০৫ জন। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর করা প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাড়াও রয়েছেন মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থী। ঝরে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেশি। প্রতিবছর উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা এসব শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক থাকছেন বেকার। বাকিদের অধিকাংশের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি মিলছে না। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ ¯œাতকই বেকার। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চ কর্তৃক পরিচালিত ‘কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার পর্যালোচনা ২০১৭’ শীর্ষক সমীক্ষা মতে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের (¯œাতক-¯œাতকোত্তর) মধ্যে বেকারত্বের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সেই তুলনায় কম শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার কম। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের বেকারত্বের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্কিলস ফর টুমরোস জবস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কলেজগুলো থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা ৭০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট বেকার থাকে এবং বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতিবছর ২১ লাখ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে প্রায় ১৩ লাখের। কাজ পাচ্ছে না প্রায় আট লাখ কর্মক্ষম মানুষ। এ ব্যাপারে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখানে যত শিক্ষিত, বেকারত্ব তত বেশি। অশিক্ষিত বা স্বল্পশিক্ষিতরা যে কোনো কাজ নির্দ্বিধায় করতে পারে। কিন্তু এমএ-বিএ পাস করে কেউ চায়ের দোকান দেবে না, রিকশাও চালাবে না। আবার শিক্ষিতদের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মও সৃষ্টি হচ্ছে না। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় নিজে কিছু করার মতো দক্ষতাও তৈরি হচ্ছে না। এ কারণে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে। সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চাকরি সৃষ্টি করলেই হবে না, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে ব্যাংক ঋণে ১৩-১৪ শতাংশ সুদহার থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে না। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে বেকারত্বের যে চিত্র উঠে এসেছে, প্রকৃতপক্ষে বেকার তার চেয়ে বেশি দাবি করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, জরিপের সময় কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো কাজ করলেই তাকে বেকার ধরা হয় না। অথচ দেখা যায়, ওই সময়টা সে কোনো কাজ করছে, বছরের বাকি সময় কিছুই করছে না। সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেই তাকে বেকারত্বের খাতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। কৃষিতে এমন প্রচ্ছন্ন বেকারত্ব অনেক বেশি। দেখা যায় তিন মাস কাজ আছে, নয় মাস বেকার। অর্থনীতির ভাষায় এটা ছদ্ম বেকারত্ব। এটা বড় সমস্যা। যে কাজ একজনে করতে পারে, সেটি দুই-তিনজনে মিলে করছে। বাকি দুজনের কাজ অর্থনীতিতে তেমন কোনো অবদান রাখছে না, তবে তারা বেকার নয়। এভাবে হিসাব করায় বেকারত্ব ৪ শতাংশের মতো। বাস্তবে বেকার কয়েকগুণ বেশি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দশম শ্রেণির মধ্যেই প্রত্যেককে একটি কর্মমুখী বিষয়ে দক্ষ করার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিদেশে দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর