শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৫৩

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় সংসদীয় কমিটিগুলো

১৭৯ কমিটি মিটিং ৭টি সাব কমিটি মিটিং অনুষ্ঠিত

আহমদ সেলিম রেজা

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্রিয় সংসদীয় কমিটিগুলো

সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদের রয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ সরকারি হিসাব, সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটি। মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে পদাধিকার বলে চারটি কমিটির সভাপতি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অপর কমিটিগুলোর দায়িত্ব পেয়েছেন বিগত মন্ত্রিসভার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। প্রতি দুই মাস পর পর মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করার জন্য এসব কমিটির সভা করার বিধান রয়েছে। তবে কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, পিটিশন কমিটির ক্ষেত্রে এই বিধান প্রয়োজ্য নয়।

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ৩০ জানুয়ারি। এর আগে জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে শপথ গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত ২৮৯ জন সংসদ সদস্য। সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে (৩ ফেব্রুয়ারি) কার্যউপদেষ্টা কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র দশ কার্যদিবসে পূর্ণ হয় একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ। এ জন্য এদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে মাত্র ১০ কার্যদিবসে সবগুলো কমিটি গঠন একটি অনন্য দৃষ্টান্ত ও মাইলফলক। এক্ষেত্রে প্রধান অবদান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর নিজের হাতে লেখা সুপারিশের কাগজগুলো সংসদে প্রদর্শন করে তিনি আরও বলেন, এসব কাগজ সংসদের মহামূল্যবান দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। স্পিকার নিজে প্রস্তাব করেন কার্যউপদেষ্টা কমিটি, লাইব্রেরি কমিটি ও পিটিশন কমিটির। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে অপর কমিটিগুলো গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন। এ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদের মোট তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি ও গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির জন্য কয়েকটি কমিটিতে কিছু রদবদল করা হয়। গঠিত কমিটিগুলো কেমন করছে- সংসদীয় কমিটিগুলো নিয়মিত সভা করতে পারছে কি না এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক মন্ত্রীরা মন্ত্রণালয়ের কাজ তদারকিতে বেশ আগ্রহী। ফলে মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিটি গঠনের পরপরই অনেক মন্ত্রণালয় খুব সক্রিয় হয়ে ওঠে। গত ছয় মাসে অনুষ্ঠিত ১৭৯টি কমিটি সভা তার প্রমাণ। এর মধ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো বিতর্কিত বিষয় তদন্তের জন্য একাধিক সাব কমিটিও গঠন করে। এসব সাব কমিটিও বেশ তৎপর। এ পর্যন্ত সাতটি সভা করেছে তারা। বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম মাসেই অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় ৯টি সংসদীয় কমিটির সভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রথম কমিটি সভা করার গৌরব অর্জন করে। যৌথভাবে দ্বিতীয় সভা করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি। তৃতীয় সভাটি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটি। জাতীয় সংসদের কমিটি শাখার তথ্য অনুযায়ী কমিটি গঠনের পর মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয় ২৭টি কমিটি বৈঠক। এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হয় ৩২টি কমিটি বৈঠক। মে মাসে অনুষ্ঠিত হয় ৩৬টি কমিটি বৈঠক। জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয় ১৮টি কমিটি বৈঠক। জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয় ৩৩টি কমিটি বৈঠক। আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হয় ১৮টি কমিটি সভা। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অনুষ্ঠিত সভার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় এ সময়ে সর্বোচ্চ সাতটি করে কমিটি সভা করেছে, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ছয়টি করে মিটিং করেছে, সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। পাঁচটি করে কমিটি সভা করেছে পাঁচটি সংসদীয় কমিটি। অধিকাংশই কমিটিই চারটি ও তিনটি করে কমিটি মিটিং করেছে। সবচেয়ে কম দুটি কমিটি সভা করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একটিও কমিটি সভা করতে পারেনি লাইব্রেরি কমিটি। বিধি মোতাবেক প্রতি দুই মাসে একটি করে বছরে ১২টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভা হওয়ার কথা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর