Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:২৮

রাজধানীতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতি, হুমকি, হামলা, মামলা, নির্যাতন বন্ধ ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পোশাক খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলো। এ দাবিতে গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে কয়েকটি সংগঠন। তারা দক্ষিণখানের চৈতী গ্রুপ ও সুপারটেক্স গার্মেন্টে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে পৃথক শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র-টিইউসি, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি। এতে বক্তব্য দেন গার্মেন্টস টিইউসি সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, কার্যকরী সভাপতি কাজী রুহুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা। চালু থাকা অনেক কারখানার অবস্থাও খারাপ। পোশাকশ্রমিক ছাঁটাই, ঠিকমতো বেতন-ভাতা না দেওয়া, নির্যাতন, কালো তালিকা তৈরিসহ পোশাকশিল্পে চলছে নানা ধরনের অস্থিরতা। চৈতী গ্রুপ ও সুপারটেক্স গার্মেন্টে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত ইউনিয়ন নেতাদের চাকরিতে পুনর্বহাল, হামলা-হুমকি-নির্যাতন বন্ধ এবং আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুসারে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন চাই। উত্তরার উত্তরখান ও দক্ষিণখানের ১০টি কারখানার শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেছিলেন।

এই ইউনিয়ন গঠন প্রক্রিয়া শুরু হলে শ্রমিকদের ওপর নানারকম হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতন নেমে আসে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, চৈতী গ্রুপের তিনটি ও সুপারটেক্স কারখানায় দুই শতাধিক ইউনিয়ন সদস্য ও ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির কর্মকর্তাকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মালিকরা আইন অমান্য করে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করেছেন। এ ছাড়া গাজীপুরের গ্রিভান্সি গ্রুপ, আশুলিয়ার মদিনা প্যাল ও মালিবাগের ড্রাগন সোয়েটার কারখানায় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা, বেতন বকেয়া রেখে রিজাইন দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগসহ নানা জুলুম-নির্যাতন চলছে। মালিকদের এসব বেআইনি তৎপরতা সত্ত্বেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বিকার এবং নিশ্চুপ ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান শ্রমিক নেতারা। বক্তারা বলেন, ছোট কারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলেও বড় বড় গ্রুপগুলোর প্রসার ঘটছে ক্রমাগত। বড় পুঁজি ছোট পুঁজিগুলো খেয়ে ফেলছে। অর্থনীতির বেসামাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে এ খাতে রপ্তানির নামে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। সেকেন্ড হোমে এ খাতের মালিকরাও এগিয়ে আছেন।


আপনার মন্তব্য