শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩১

জোর দেওয়া হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ কমানোর হার বৃদ্ধির ওপর

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন

নিজামুল হক বিপুল, মাদ্রিদ (স্পেন) থেকে

জোর দেওয়া হচ্ছে কার্বন নিঃসরণ কমানোর হার বৃদ্ধির ওপর

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের প্রথম সপ্তাহে শেষ দিনে গতকাল আলোচনা হয়েছে কার্বন নিঃসরণ কমানোর হার বাড়ানো নিয়ে। বর্তমানে বিশ্বের ৩৯টি দেশ ৪৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করছে। এ কাজে সবার ওপরে চীন। তারপরের অবস্থানে আমেরিকা ও ভারত। কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে অনুন্নত দেশ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এবং এলডিসিভুক্ত দেশগুলো উন্নত দেশগুলোকে চাপ দিয়ে আসছে। অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো বলছে, তারা নিঃসরণ কমাতে অর্থনৈতিক সহায়তা চায়। এ নিয়ে এখন দেশগুলোর মধ্যে দেনদরবার চলছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রাখার যে দাবি বারবার জানিয়ে আসা হচ্ছে, এবারও তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী এটি যেন কোনোভাবেই সর্বোচ্চ দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে না ওঠে।  বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য জিয়াউল হক জানান, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং কমানোর হার বৃদ্ধি করার জন্য এবারের সম্মেলনে জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বকে বাঁচাতে হলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর কোনো বিকল্প যে নেই সে কথাই বারবার বলা হচ্ছে। প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল ৬ অনুযায়ী কার্বন  নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। সে জন্য দরকষাকষি চলছে। এদিকে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের আগে বাস্তবায়নের কথা বলেছিল তাদের সেই প্রতিশ্রুতির কতটুকু পূরণ তারা করেছে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। আবার কোন কোন দেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েও রক্ষা করেনি তাদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে ১০০ বিলিয়ন ডলারের গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) গড়ার যে প্রতিশ্রুতি প্যারিস সম্মেলনে দেওয়া হয়েছিল তাতে ভাটা চলে এসেছে। যেহেতু এটি প্যারিস রুল বুকে ছিল না তাই উন্নত বিশ্ব জিসিএফ তহবিল নিয়ে পিছুটান দিচ্ছে। কথা ছিল, ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন শুরু হবে। সেটি চলবে ২০৩০ পর্যন্ত।  কিন্তু সেই তহবিলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো জমা পড়েছে। অর্থাৎ এই তহবিল নিয়ে এক ধরনের অনাগ্রহ দেখাচ্ছে উন্নত বিশ্ব। তারা এখন আর এই তহবিলে অর্থায়ন করতে চাচ্ছে না। এ নিয়েও এখন দেনদরবার চলছে ধনী ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর