শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৫

চিড়িয়াখানায় হাতি খেলছে ফুটবল কদিন পর খেলবে বাস্কেটবল

মোস্তফা কাজল

চিড়িয়াখানায় হাতি খেলছে ফুটবল কদিন পর খেলবে বাস্কেটবল

ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় এখন বিশালদেহী হাতিরা খেলছে ফুটবল। কয়েক দিন পর তারা বাস্কেটবলও খেলবে। এ জন্য এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে বাস্কেটবল স্ট্যান্ড। গতকাল চিড়িয়াখানায় গিয়ে জানা গেছে এ তথ্য।

সরেজমিন দেখা গেছে, সাত বছরের শিশু অনিক চোখ ছানাবড়া করে হাতির ফুটবল খেলা দেখছে। বিশাল দেহের হাতিগুলোর দিকে এক যুবক ফুটবল ছুড়ে মারছে, আর হাতিগুলো পা দিয়ে লাথি মেরে তা ফেরত পাঠাচ্ছে যুবকের কাছে। আর হাতিদের এই ফুটবল খেলার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমিয়েছে অনিকের বয়সী অনেক শিশু। দেখা গেছে, হাতিদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় ব্যস্ত যুবক ইশারা করতেই দর্শক শিশুদের দিকে ফিরে হাতিরা লম্বা শুঁড় তুলে অভিনন্দন জানাল। আর তা দেখে আনন্দে ফেটে পড়ল শিশুরা। তারাও হাততালি দিয়ে অভিনন্দনের জবাব দিল। এই অবাক করা দৃশ্যই এখন থেকে চোখে পড়বে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায়। জানা গেছে, দর্শকদের আনন্দ জোগাতে হাতিদের ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর এ প্রশিক্ষণ পেয়ে হাতিরা হয়ে উঠেছে রীতিমতো খেলোয়াড়। সংশ্লিষ্টরা জানান, চিড়িয়াখানায় আগত ছোট-বড় দর্শনার্থীদের নির্মল আনন্দ ও বিনোদন দিতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাতিদের ফুটবল খেলা শেখানো হয়েছে। চলছে বাস্কেটবলের প্রশিক্ষণও। প্রশিক্ষণ শেষ হলে এই হাতিরা ফুটবল ছাড়াও বাস্কেটবল খেলবে।  মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো চিড়িয়াখানায় দর্শকদের পশুপাখি দেখানোর পাশাপাশি বিনোদনের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেটের কুলাউড়া থেকে দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে হাতিদের ফুটবল ও বাস্কেটবল খেলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফুটবল খেলা দেখতে হাতির শেডে দর্শনার্থীর ভিড় প্রতিদিনই বাড়ছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশে মিসরের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর শাহাব মেক্কি চিড়িয়াখানা পরিদর্শনে এসে হাতির ফুটবল খেলা দেখে মুগ্ধ হন। পরে বাংলাদেশ থেকে মিসরে হাতি নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। নজরুল ইসলাম আরও জানান, পূর্ণ বয়স্ক একটি হাতি দৈনিক ১০০ কেজি কলাগাছ, ৭০ কেজি সবুজ ঘাস, তিন কেজি ছোলা ও ২৫ কেজি সবজি (লাউ, মিষ্টিকুমরা, শসা) খায়। প্রসঙ্গত, জাতীয় চিড়িয়াখানা যাত্রা শুরুর সময় হাতি ছিল এক জোড়া। বছর ১৫ আগে একটি হাতি মারা যায়। একটি নারী হাতি অবশিষ্ট ছিল, নাম কাজল তারা। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম থেকে বাহাদুর ও সুন্দরী নামে দুটি হাতি কেনা হয়। চলতি বছরের ২ এপ্রিল র‌্যাব দুটি হাতি জব্দ করে চিড়িয়াখানায় দেয়। এ দুটি হাতির নাম সম্রাট ও পালোয়ান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর