শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩০

হয়রানি ছাড়াই মিলছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

আলী আজম

হয়রানি ছাড়াই মিলছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

বিদেশগামী ব্যক্তি অথবা বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের সম্পর্কে নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পিসিসি) চায়। এমন ব্যক্তিকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হচ্ছে, যিনি কোনো অপরাধী নন এবং যার বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগও নেই। তিনি দেশের বাইরে গেলে রাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। এ সনদকেই বলা হয় পিসিসি। এখন পিসিসি মিলছে পুলিশের কোনো হয়রানি ছাড়াই। অনলাইনে আবেদন করে ঘরে বসেই সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পিসিসি। গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক পিসিসি হাতে হাতে বা ডাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত তিন বছরে ৭৫ হাজার পিসিসি সরবরাহ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল   ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডিএমপি সদর দফতরে এ সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্নভাবে সার্ভিস নিশ্চিত করতে একজন পরিদর্শক, তিনজন এএসআই ও দুজন কনস্টেবল নিয়োজিত রয়েছেন এ কাজে। বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে ৫০০ টাকা চালান জমা দিয়ে পাওয়া যাবে পিসিসি। সোনালী ব্যাংকের চালান নম্বর ১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১। pcc.police.gov.bd এই অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর ছবি, ব্যাংকের চালান কপি, পাসপোর্টের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাগরিক সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজ আবেদন ফরমের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। বিদেশে অবস্থানকারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি আবেদন ফরমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাসপোর্ট সত্যায়ন না থাকা, নাম-ঠিকানা ভুল দেওয়া, জেলার ঠিকানা দিয়ে ডিএমপিতে আবেদন করায় অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চঈঈ ঝ এরপর রেফারেন্স নম্বর লিখে যে কোনো মুঠোফোন থেকে ২৬৯৬৯ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে আবেদনের সর্বশেষ স্ট্যাটাস জানা যাবে। ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি অনলাইনে পিসিসি চালু করা হয়। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার আবেদন পড়েছে। এর মধ্যে ৭৫ হাজার পিসিসি সরবরাহ করা হয়েছে। ভুল-ত্রুটির কারণে বাতিল করা হয়েছে ২৭ হাজার ১৪১টি আবেদন ফরম। ২৪ ঘণ্টা পিসিসির সার্ভিস নির্বিঘœ করতে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। হেল্পলাইন নম্বর ০১৭১৩৩৯৮৬৮০। এ হেল্পলাইন নম্বরে পিসিসি-সংক্রান্ত যে কোনো বিষয় জানা যাবে। পিসিসির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

একটি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত নাজমুন নাহার জানান, তিনি কানাডায় থাকেন। বিশেষ প্রয়োজনে তার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। পরে তিনি কানাডায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে পাসপোর্ট সত্যায়িত করে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর স্বামীর মাধ্যমে আবেদন করেন। একটি ছোট ভুলের কারণে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে তার ১০ দিনের মতো লাগে। তবে কোনো হয়রান হতে হয়নি। ইলিয়াস আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য তাঁর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়। তিনি ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে পিসিসির জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। তিন দিন পর গুলশান থানা থেকে ফোন আসে। তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর বাসায় এসে সব কাগজপত্র সঠিক কিনা যাচাই করে চলে যান। ছয় দিনের মাথায় তিনি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ডিএমপি সদর দফতর থেকে হাতে হাতে পেয়ে যান। পিসিসির দায়িত্বরত কর্মকর্তা পরিদর্শক শরীফ-উদ-দৌলা বলেন, ‘পুলিশের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই পিসিসি সরবরাহ করা হচ্ছে। আবেদনের ছোটখাটো ত্রুটিগুলো আমরা সংশোধন করে দিই। পিসিসির জন্য কোনো তদবির বা টাকা-পয়সা লেনদেন না করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে অনলাইনে আবেদনের মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে পিসিসি সরবরাহ করা হচ্ছে। পিসিসি সার্ভিসের জন্য ডিএমপি ২০১৮ সালে জেনেভা সরকার কর্তৃক ওয়ার্ল্ড সামিট অন দি ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার পায়। এ ছাড়া একই বছর জাতীয় উন্নয়ন মেলায় বিশেষ পুরস্কার লাভ করে পিসিসি। অনলাইন পিসিসি সার্ভিস আরও সহজ ও গতিশীল করতে আমরা ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি।’ ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা জানান, অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের বিষয়ে তথ্য আসে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে মামলা আছে কিনা এবং ঠিকানা সঠিক আছে কিনা তা তদন্ত করা হয়। সব ঠিক থাকলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিসিসি ইস্যু করে ডিসি অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো হয়রানি বা টাকা লেনদেনের সুযোগ নেই। ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট থানায় ইস্যু হওয়ার পর ডিসি অফিসে আসে। এরপর সেটা দ্রুত স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পিসিসি পেনডিংয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি : আবেদনকারীর পাসপোর্টে উল্লিখিত স্থায়ী কিংবা বর্তমান ঠিকানার যে কোনো একটি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন বা জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় অবস্থিত হতে হবে। আবেদনকারী বা যার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে তাকে অবশ্যই ওই ঠিকানার বাসিন্দা হতে হবে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) ক্ষেত্রে যদি পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকে তবে ঠিকানার প্রমাণস্বরূপ জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ বা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদপত্রের ফটোকপি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করে দাখিল করতে হবে। বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কোনো ব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক পাসপোর্টের তথ্যপাতার সত্যায়িত কপি আবেদনের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। বিদেশগামী কিংবা প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশে বসবাস করে স্বদেশে বা বিদেশে প্রত্যাবর্তনকারী বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এ অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে ইস্যু করা হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাকরি কিংবা অন্য কোনো কাজে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা কিংবা সিটি এসবি শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস : অনলাইনে যথাযথভাবে পূরণ করা আবেদনপত্র, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্যপাতার স্ক্যান কপি অথবা বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্যপাতার স্ক্যান কপি অথবা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিজ দেশের জাস্টিস অব পিস কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্যপাতার স্ক্যান কপি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের যে কোনো শাখা থেকে ১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১ কোডে করা ৫০০ টাকা মূল্যমানের ট্রেজারি চালান অথবা অনলাইনে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জসহ ফি প্রদান করতে হবে।


আপনার মন্তব্য