শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২২

থানা থেকে খোয়া যাওয়া অস্ত্রের খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ

হদিস মেলেনি সাবেক ডিআইজির অস্ত্রেরও

মাহবুব মমতাজী

থানা থেকে খোয়া যাওয়া অস্ত্রের খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ

পৃথক দুই ঘটনায় রাজধানীর থানা ও থানাসংলগ্ন এলাকা থেকে খোয়া গেছে দুটি অস্ত্র। এর একটি সাবেক ডিআইজির। তার অস্ত্রটি ছিনতাই হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কাছ থেকে, অন্যটি চুরি হয় শাহবাগ থানার ভিতর থেকে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ঘটনাটি প্রায় চার মাস আগের। আর শাহবাগ থানা থেকে অস্ত্র চুরি হয় প্রায় নয় মাস আগে। এখনো ঘটনা দুটির কিনারা করতে পারেননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ বলছে, শিল্পাঞ্চলের ঘটনায় জড়িতরা শনাক্ত হলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে শাহবাগের বিষয়টি তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। অস্ত্রেরও খোঁজ পাচ্ছেন না তারা। গত বছরের ২৩ অক্টোবর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি মামলা করেন অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি এম জেড আই তালুকদার। তিনি তার মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ২২ অক্টোবর বগুড়ার বনানী থেকে এসে রাত ৯টায় রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে নামেন। বাস থেকে নামার পর ১৮০ টাকায় সিএনজি ভাড়া নিয়ে নিকেতনে আসছিলেন। বিজয় সরণির ওভারপাস পার হয়ে শিল্পাঞ্চলের ৫০ গজ ভিতরে ঢুকতেই চালক সিএনজি নষ্টের ভান করে সেটি থামায়। পরে নেমে টুকটাক মেরামতের চেষ্টা করে। এরপর হঠাৎ ডান দিক থেকে দুজন ও বাঁ দিক থেকে একজন চোখের পলকে দরজা খুলে সিএনজির ভিতরে ওঠে। একজন বাঁ পাশ থেকে তার হাত শক্ত করে ধরে মুখ ও নাক চেপে ধরে। সময়ে সময়ে তার গলাও টিপে ধরে। ডান দিক থেকে দুজন তার হাত শক্ত করে ধরে সমস্ত শরীর তল্লাশি করতে থাকে। এ সময় তার কোমরে লাইসেন্স করা ব্রাজিলের তৈরি একটি পিস্তল ছিল। পিস্তলের সঙ্গে ম্যাগজিনসহ ৬টি ও থলিতে আরও ৬টি গুলি ছিল। আর মানিব্যাগে ৫-৭ হাজার টাকা ছিল। এ ছাড়া পকেটে সিম্ফনি ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোনসেট ছিল। সবকিছু নিয়ে ছিনতাইকারীরা সেই সিএনজিতে করে পুরো এলাকায় তিনটি চক্কর দিয়ে চ্যানেল আই ভবনের সামনে তাকে নামিয়ে দিয়ে মহাখালীর দিকে চলে যায়। জানতে চাইলে এম জেড আই তালুকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। আর অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাও এখনো আমাকে কিছুই জানাননি।’ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান জানান, ছিনতাইকারী চক্রটিকে তারা শনাক্ত করেছেন। কিছুদিনের মধ্যেই তারা গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগেও গত বছরের ৫ মে শাহবাগ থানা থেকে চাইনিজ মডেলের একটি পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি খোয়া যায়। নয় মাসেও সেই অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি কে বা কারা সেই অস্ত্র-গুলি চুরি করেছে তা-ও জানা যায়নি। প্রথমে ঘটনা তদন্ত করে খোদ শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগে। তাদের তদন্তেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিমাংশু সাহাকে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করা হলেও তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না মেলায় তাকে আটক করা যায়নি। তবে সন্দেহের বাইরে নেই থানার পুলিশ সদস্যরাও। এএসআই হিমাংশু সাহা ঘটনার দিন থানা ভবনের দ্বিতীয় তলার বিশ্রামকক্ষে পোশাক পরিবর্তন করেন। হিমাংশু নিজের ব্যবহারের পিস্তল-গুলি রাখেন বিছানার ওপর। ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়ে যান গোসলে। মিনিট পাঁচেক গোসল শেষে বিশ্রামকক্ষে ফিরে দেখেন তার পিস্তল-গুলি বিছানার ওপর নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি অস্ত্র-গুলির। পরিকল্পনা ছাড়া থানার ভিতরে এমন ঘটনা সম্ভব নয়। অস্ত্র খোয়া যাওয়ার পর থানার সব কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ডিবিসূত্র জানান, ঘটনার সময় আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে পুলিশ সদস্য ছাড়া শুধু একজন বহিরাগত যুবকই থানা কমপ্লেক্সের ভিতরে ছিলেন। তবে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সন্দেহভাজন ওই যুবকের কথোপকথনের কোনো দৃশ্য মেলেনি সিসিটিভি ফুটেজে। এর পরও ওই সময় থানায় অবস্থানকারী কোনো পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সেই যুবকের কোনো ধরনের যোগাযোগ কিংবা তথ্য সহযোগিতা ছিল কিনা তা তদন্তাধীন। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) উপকমিশনার (ডিসি) রাজীব আল মাসুদ জানান, থানায় চুরি যাওয়া অস্ত্রের তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর