শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৮

ময়নাতদন্তেই আটকে ছিল খুনের রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়নাতদন্তেই আটকে ছিল খুনের রহস্য

ময়নাতদন্তেই আটকে ছিল খুনের রহস্য। কিন্তু দুই বছর এক মাস পর আসা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এলো দুটি কিডনি অপসারণের কারণেই মৃত্যু হয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাতা রফিক শিকদারের মা রওশন আরা বেগমের। তবে এখানেই শেষ নয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানা মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিল বাদীকে। আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আবারও কালক্ষেপণ। তবে এরই মধ্যে মামলা নিয়ে টানাহেঁচড়ার বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নড়েচড়ে বসায় অবশেষে শুক্রবার শাহবাগ থানা পুলিশই গ্রহণ করল বাদীর মামলা। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলালকে। অন্য তিন আসামি হলেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসেন, চিকিৎসক মোস্তফা কামাল ও আল মামুন।

২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর রওশন আরা নামের ওই রোগী বিএসএমএমইউতে মারা যান। ১০ নভেম্বর আসা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রওশন আরার সব অরগান ড্যামেজ ছিল। এ ছাড়া তার দুটি কিডনিই সার্জিক্যালি অপসারণ করা হয়েছিল।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুন করে আলামত নষ্ট ও সহযোগিতার অভিযোগ এনেছেন বাদী। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে কাজ অব্যাহত আছে। তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম বলেন, একটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে দুই বছর লাগবে কেন! আর মামলা নিতে পুলিশের এত টালবাহানা কেন? এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দুই সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করতে সরাসরি শাহবাগ থানার ওসিকে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। রফিক সিকদার মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার মা অসুস্থ হলে ২০১৮ সালের ২৬ জুন তাকে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, মায়ের বাঁ কিডনি আক্রান্ত অবস্থায় থাকলেও ডান কিডনি স্বাভাবিক ছিল। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি তার মাকে বিএসএমএমইউতে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলালের অধীনে  ভর্তি করেন। ওই চিকিৎসকের নির্দেশমতো পরীক্ষাতেও তার মায়ের ডান কিডনি স্বাভাবিক ছিল। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁ কিডনি অপসারণের জন্য আসামিরা তাঁর মাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন। ওই রাতে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তাঁর মায়ের ডান কিডনি কাজ করছে না এবং তাঁকে আইসিইউতে নিতে হবে। বিএসএমএমইউতে আইসিইউ না পেয়ে মগবাজারে একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ল্যাবএইডে পরীক্ষা করতে পাঠানো হলেও তাঁর মায়ের দুটি কিডনির কোনোটিই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তিনি অন্য একটি হাসপাতালেও পরীক্ষা করালে চিকিৎসকরা একই মত দেন। চিকিৎসকরা তখন বলেছিলেন, তাঁর মায়ের দুটি কিডনিই অপসারণ করা হয়েছে। রওশন আরার পরিবারের সদস্যদের শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল, বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসক রওশন আরার দুটি কিডনি কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। রওশন আরাকে যখন সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল তখন সেখানে ওই হাসপাতালেরই চিকিৎসক মামুনের মাকে ভর্তি করা হয়। তাঁরও দুটি কিডনি নষ্ট ছিল। চিকিৎসার পর তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ।

রফিক শিকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ডা. দুলাল গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদনের কারণে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর এফডিসিতে এসে লিখিতভাবে দায় স্বীকার করেন এবং আমার মাকে নতুন কিডনি স্থাপন করার সব দায়িত্ব নেওয়ার চুক্তি করেন। কিন্তু তা না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে আমার মায়ের নির্মম মৃত্যু হয়।’গতকাল ঘটনার বিষয়ে জানতে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান দুলালের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন রিসিভ করেননি বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়াও।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত কমিটি : চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ ফাইজুল কবীর এবং উপপরিচালক (ঢাকা) এম রবিউল ইসলাম।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর