শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩১

নিউইয়র্কে বিপাশা হায়াতের প্রদর্শনী

প্রতিদিন ডেস্ক

নিউইয়র্কে বিপাশা হায়াতের প্রদর্শনী

অভিনেত্রী ও চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াতের পেইন্টিং ‘প্রিমাভেরা-গ্যালারি অব বিডি আর্ট’ প্রদর্শিত হচ্ছে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে। ৭৪ স্ট্রিটের টিডি ব্যাংকের উল্টো পাশে আইএসপির দোতলায় অবস্থিত এ গ্যালারিতে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শুরু হয় এ প্রদর্শনী। গ্যালারিতে রাখা হয়েছে বিপাশা হায়াতের ২৪টি চিত্রকর্ম। প্রদর্শনীর ব্যাপারে বিপাশা হায়াত বলেন, ‘প্রথমত আমি খুবই এক্সাইটেড যে, জ্যাকসন হাইটসে একটা গ্যালারি হয়েছে যেখানে বাংলাদেশি আর্টিস্টদের চিত্রকর্ম জায়গা পাবে। জ্যাকসন হাইটস বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র।           এ রকম জায়গায় একটা আর্ট গ্যালারি খুব দরকার ছিল। তাই প্রিমাভেরা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। দর্শকের সঙ্গে আর্টিস্টের যে কথোপকথন সেটা এখন আরও অর্থবহ হবে।’

জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী আরও বলেন, আমার এই সিরিজের নাম রাখা হয়েছে ‘ইনসাইডার’। আমি বলব এটা প্রিমাভেরা কর্তৃপক্ষের দূরদৃষ্টির নিদর্শন। আমার ভাবনার সঙ্গেও নামটা মিলে গেছে। আমি আসলে ছবি আঁকি না ছবি প্রকাশ করি। আমি ছবির মাধ্যমে আমার ভিতরের ভাবনাগুলো দৃশ্যমান করার চেষ্টা করি। আমি মনে করি, আমরা যখন কথা বলি তার চেয়ে বেশি কথা বলি যখন কিছু বলি না। আমার কাছের মানুষ জানেন, আমি যখন ছবি আঁকি তখন আমাকে চোখ বন্ধ করে ভাবতে হয়। ওই মুহূর্তে আমার ভিতরে যে ভাবনা চলে সেটাকেই আমি ক্যানভাসে আনার চেষ্টা করি। তাই এবারের ছবিগুলোতে যেমন রং পাওয়া যাবে তেমন বৈরী সময়ের সঙ্গে যুদ্ধটাও পাওয়া যাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘কিছু ছবি আছে যেখানে আমি এই পৃথিবীর প্রাচীনতম মানুষের ভাষা আবিষ্কারের চেষ্টা করেছি। কারণ আমি মনে করি, সভ্যতার যাত্রায় প্রাচীনতম যে মানুষ ছিল তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। তাই তাদের ভাষাগুলো বুঝতে চাই তাদের বোঝার জন্য। পাশাপাশি আমাদের ভাষাগুলো আবিষ্কার করতে চাই আমাদের নিজেদের বোঝার জন্য।’

বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বিপাশা বলেন, এখন আমার তিনটা কাজ- নাটক লেখা, ছবি আঁকা এবং পড়ালেখা করা। রোমান এম্পায়ারের আগে পরে সে সভ্যতার উত্থান পতন তার সঙ্গে ধর্মের যে প্রভাব এবং সংমিশ্রণ সেটা নিয়ে পড়ার চেষ্টা করছি। এখান থেকে নিজেকে এবং নিজের কাজগুলোকে আবিষ্কারের চেষ্টা করছি।

সামনের পরিকল্পনা কী- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন তো আসলে বেশির ভাগ পরিকল্পনাই থাকে বাচ্চাদের কেন্দ্র করে। এনসিয়েন্ট সোসাইটির গতি প্রকৃতি কী করে আমার কাজে আনতে পারি সেটা নিয়ে গবেষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনি চিন্তা করলে দেখবেন, যে কোনো সভ্যতার উত্থানের পেছনে কিন্তু আরেকটি সভ্যতার পতনের ধারাবাহিকতা থাকে। এটা যে কত বেদনার এবং যন্ত্রণার সেটা এর মধ্যে পুরোপুরি ডুবে না গেলে বোঝা যায় না। আমি মনে করি প্রত্যেকেরই সেটা জানা খুব জরুরি। সামনের সময়টাতে এটা নিয়ে কাজ করতে চাই।’ তিনি বলেন, আসুন আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে চিত্রকর্মে আগ্রহী করে তুলি। তাহলে তাকে ভবিষ্যৎ বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য উপযুক্ত করে তৈরি করা হবে।


আপনার মন্তব্য