শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৮

বগুড়ায় সড়কে গাছ ফেলে তিন ঘণ্টা গণডাকাতি

দুই দিনেও হয়নি মামলা, অধরা ডাকাতরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ার শেরপুরের আঞ্চলিক সড়কে গাছ ফেলে প্রায় তিন ঘণ্টা গণডাকাতির ঘটনায় থানায় নেওয়া হয়েছে ছিনতাইয়ের অভিযোগ। এমনকি ঘটনার দুই দিন পার হলেও সে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। উদ্ধার হয়নি নগদ টাকাসহ খোয়া যাওয়া মালামাল। ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতারও করতে পারেনি পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাত অনুমান সোয়া ৮টার দিকে শেরপুর-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের সুখানগাড়ি (ফয়েজমারা সেতু) এলাকায় এ গণডাকাতি হয়।

অভিযোগে জানা যায়, ডাকাত দলের ২০-২৫ জন সশস্ত্র সদস্য সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে কয়েকটি ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল আটকিয়ে চালক-যাত্রীদের মারধরসহ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, সোনার অলঙ্কার ও মোবাইল ফোন সেট লুটে নেয়। এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা লুটতরাজ চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে যায় তারা। এদিকে সশস্ত্র ডাকাত দল চলে যাওয়ার আধা

ঘণ্টা পর সড়কে টহলের দায়িত্বরত শেরপুর থানার উপ-পরিদর্শক সিয়াম ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু এরই মধ্যে যা হওয়ার তা হয়ে যায়। এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী ট্রাকচালক শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ধড়মোকাম দুলাল হোসেন জানান, ফরিদপুর থেকে ট্রাকে মালামাল ভর্তি করে শেরপুরে আসছিলেন। ফয়েজমারা সেতু এলাকায় এলে গাছ ফেলে তার ধানবোঝাই ট্রাকের গতি রোধ করা হয়। একই সঙ্গে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার থেকে নগদ ১ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নেয় ডাকাতরা।

একইভাবে অটোচালক আলহাজ উদ্দিনের থেকে নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা, সোনার চেইন ও মোবাইল ফোন সেট লুটে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘রানীরহাট বাজারে ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম। বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতের কবলে পড়ি।’ তার মতে আরও অনেকেই ডাকাতির শিকার হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী অন্তত চারটি ট্রাক, ছয়টি সিএনজি অটোরিকশা, পাঁচটি অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেল থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুটেছে ডাকাতরা।সুখানগাড়ি গ্রামের আবু বকর, হাফিজার রহমানসহ এলাকাবাসী বলেন, কিছু দিন ধরেই এ এলাকায় দুর্বৃত্তরা সক্রিয় আছে। মাঝেমধ্যে ফয়েজমারা সেতু এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি হচ্ছে। তাই আতঙ্কে সন্ধ্যার পর প্রয়োজন না হলে বাড়ি থেকে বের হয় না কেউ। আর যেদিন টহল পুলিশের মধ্যে গড়িমসি থাকে সেদিনই কোনো না কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার গণডাকাতি হলো। বগুড়ার শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। ভুক্তভোগীদের সঠিক সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হতে না পারায় মামলা নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারের আশা করছি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর