শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৬

ভিড় কমেছে মেলায়, চলবে দুপুর থেকে বিকাল

মোস্তফা মতিহার

ভিড় কমেছে মেলায়, চলবে দুপুর থেকে বিকাল

লকডাউনের আওতামুক্ত থাকছে একুশে বইমেলা। তবে, লকডাউনকালীন মেলার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজ মেলা অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এই সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে। গতকাল বইমেলার ১৮তম দিনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে লকডাউনের খবরে মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। তবে লকডাউনের সময় মেলা সচল রাখায় সরকারের প্রতি সাধুবাদ জানিয়েছেন মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা। তাদের মতে, লকডাউনের সময় মেলা সচল রেখে সরকার দেশের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি নিজেদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তবে, এর মধ্যে দ্বিমতও প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক। তাদের মতে, লকডাউনের কারণে যদি গণপরিবহনই বন্ধ থাকে তাহলে মেলায় মানুষ আসবে কিভাবে? লকডাউনকালীন মেলা কেমন হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, লকডাউনে মেলা কেমন হবে তা এখনই বলতে পারব না। দুই-চার দিন যাওয়ার পর এ বিষয়ে বলা যাবে। দেশজুড়ে লকডাউন দেওয়া হলেও বইমেলা কেন এর আওতার বাইরে এমন জিজ্ঞাসাও ছিল এদিনের মেলায় আগতদের। করোনা প্রতিরোধে যেখানে জনসমাগম এড়িয়ে চলার কথা স্বাস্থ্যবিধিতে বলা হয়েছে সেখানে লোকসমাগম পরিপূর্ণ বইমেলা কেন চালু রাখার অনুমতি দিল সরকার এমন প্রশ্নও কুরে কুরে খাচ্ছে গতকাল মেলায় আগতদের। স্কুল-কলেজের প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করে এদিনের মেলায় আগত অনেকেই বলেন, ‘স্কুল-কলেজে করোনা সহজে প্রবেশ করতে পারে, বইমেলায় প্রবেশে করোনার হয়তো অনুমতি লাগে’ তাই হয়তো বইমেলাকে লকডাউনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হওয়ার বিষয়ে যেখানে জনসাধারণকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে সেখানে কোনো জরুরি প্রয়োজনে বইমেলা খোলা রাখা হলো বিষয়টি নানা জনের মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এনিয়ে চলছে নানা ধরনের সমালোচনা। মজা করে ফেসবুকে একজন লিখেছেন ‘এ কেমন তামাশা, দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে !! এই সময়ে নিশ্চিত করোনা দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিবে। গণপরিবহন বন্ধ পাবলিক বইমেলায় নিজস্ব বিমানে করে উড়ে যাবে।’ তবে, লকডাউনে যে মেলা জমে উঠবে না সে চিত্র গতকাল মেলার ১৮তম দিনেই লক্ষণীয় ছিল। এদিনের মেলায় আগতদের পরিমাণ ছিল নগণ্য। এদিন প্রকাশক ও তাদের বিক্রয়কর্মীদের চেয়েও বইপ্রেমীদের সংখ্যা কম ছিল। বিকিকিনিও ছিল অন্যদিনের তুলনায় একেবারেই কম। বিগত কয়েকদিনের মতো ভিড় ছিল না বলে ধূলির পরিমাণও কম ছিল। এদিনের মেলায় আগতদের বেশিরভাগই ছিলেন দর্শনার্থী।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে, গতকাল ১৮তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ৪৮টি।  এ পর্যন্ত মেলায় নতুন বই এসেছে ২ হাজার ১৬১টি। বরাবরের মতো এবারও প্রকাশনায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি বিক্রিতে পিছিয়ে রয়েছে কবিতার বই। গতকাল প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক বইয়ের মধ্যে রয়েছে, গল্পের বই ১০টি, উপন্যাস ৮টি, কবিতা ১৬টি, গবেষণা ১টি, ছড়া ২টি, জীবনী ১টি, রচনাবলী ১টি, মুক্তিযুদ্ধ ২টি, ভ্রমণ ১টি, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ১টি, ধর্মীয় ১টি, সায়েন্সফিকশন ১টি ও অন্যান্য ৩টি।