শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৫

দরপতন বড় চ্যালেঞ্জ

-ড. রুবানা হক

দরপতন বড় চ্যালেঞ্জ

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেছেন, পোশাকশিল্পে এ মুহূর্তে দরপতনের বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ। দরপতনের কারণে আমরা ভালোমতো পোশাকশিল্পকে ধরে রাখতে পারছি না। এরপর রয়েছে ভাবমূর্তির চ্যালেঞ্জ। রপ্তানিতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া আরেকটি চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমা দেশগুলোয় বিপুলসংখ্যক ব্যাংক দেউলিয়া হচ্ছে। এর বিপরীতে আমাদের কোনো সুরক্ষা নেই। যারা দেউলিয়া হচ্ছেন তারা টাকা পাঠাচ্ছেন না। তখন বাংলাদেশ ব্যাংককে আমাদের অনুরোধ করতে হচ্ছে ফেরত না পাওয়া অর্থের বিপরীতে ১০ বছরের জন্য একটা ব্লক অ্যাকাউন্ট করে দেওয়া হোক। পণ্য ও বহুমুখীকরণের মতো নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিজিএমইএ আগামী পর্ষদকে কাজ করতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যানুসারে বিশ্ববাজারে ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ অংশীদারির ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ অংশীদারি গত ১৫ বছর ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০০৫ সালে ছিল ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারি বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে। এজন্য সঠিক কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি করোনা-পরবর্তী শিল্প পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনার তৃতীয় ঢেউ বিরাজ করছে। আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। তবে সরকার-ঘোষিত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পুনরায় ছয় মাস বৃদ্ধি করা হলেও মহামারীর তৃতীয় ঢেউ এসে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি আরও কঠিনতর করে দিয়েছে। এ সংকট উত্তরণে দুই বছরে ১৮টি কিস্তির বদলে তিন বছরে ৩০টি কিস্তির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের সুযোগ প্রয়োজন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিলের আওতায় ৫০০ কোটি টাকার একটি বরাদ্দ আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে থাকা উচিত। এ তহবিলের মাধ্যমে নতুন পণ্য ও বাজারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং ভার্চুয়াল বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সংকটাপন্ন কারখানাগুলোর জন্য জরুরি তহবিল গঠনও প্রয়োজন। কারণ যেসব কারখানা আর্থিক সমস্যা ও বিপর্যস্ততার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু তাদের অতীতে ঋণখেলাপির কোনো রেকর্ড নেই সেগুলো ঋণের কিস্তি পরিশোধে অসমর্থ বা খেলাপি হলে তাদের ব্যবসা থেকে প্রস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

ড. রুবানা হক বলেন, নিজস্ব পণ্য বাজারজাতকরণ এবং অনলাইন বাজারে পণ্য বিক্রি ও রপ্তানিতে বিশেষ নীতিসহায়তা প্রয়োজন। ২০১৮ সালে পোশাকপণ্যে বিশ্বে অনলাইনে খুচরা বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা ২০২৩ সালে গিয়ে ৮৭২ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। অনলাইন বাজারে ছোট পরিসরে পণ্য তৈরি ও বিপণনের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানাগুলো টিকে থাকতে এ উদীয়মান অনলাইন বাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, শিল্প খাত বহুমুখীকরণ হিসেবে টেক্সটাইল বর্জ্য বা জুট থেকে সুতা তৈরি সম্ভব। প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে পলিয়েস্টার স্টেপল ফাইবার তৈরি, বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য আমদানি হওয়া মেশিনারিজ স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি করা সম্ভব। বস্ত্র ও পোশাক খাতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ও ডাই তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিকদের পুষ্টিমান উন্নয়নে দৃষ্টি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এর পরও দ্রব্যমূল্য, আবাসন, চিকিৎসা খরচের ঊর্ধ্বগতি নিম্ন আয়ের মানুষের পরিমিত জীবন যাপনের ক্ষেত্রে একটি উদ্বেগের বিষয়। অর্থনীতি ও রপ্তানি আয় অর্জনে পোশাকশ্রমিকদের তুলনামূলক গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদেরও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা হোক। এ লক্ষ্যে আসছে বাজেটে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চাই। পাশাপাশি শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। কারণ করোনার প্রাদুর্ভাবের ফলে শ্রমিকদের শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত হয়েছে।

ড. রুবানা হক বলেন, পোশাকশিল্পে কর্মরত অনেক মেধাবী শ্রমিক শিক্ষার্থী সুযোগ ও অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত। কারখানা পর্যায়ে তাদের চিহ্নিত করে উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করলে দেশ উপকৃত হবে। এ ক্ষেত্রে কারখানার পক্ষ থেকে সবেতনে শিক্ষাকালীন ছুটি এবং সরকারের তরফ থেকে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয় খরচ বহন করা যেতে পারে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর