শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মে, ২০২১ ২৩:১০

প্রকৃতি

গ্রীষ্মের পরিযায়ী দেশি শুমচা

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

গ্রীষ্মের পরিযায়ী দেশি শুমচা
Google News

এক অনিন্দ্যসুন্দর পাখি দেশি শুমচা। পাখিটির গায়েই যেন লেগে আছে প্রকৃতির সব রং। নানা রঙে রঙিন এই পাখিটি আমাদের দেশের গ্রীষ্মের পরিযায়ী পাখি। এরা ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে আসে। এ সময়টা তাদের প্রজননকাল। পুরো বর্ষা মৌসুম কাটিয়ে আবার অন্য বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় উড়ে যায়। এরা আমাদের দেশে খুব কম সময় থাকে বলে এই পাখির দেখা পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ওপরই নির্ভর করে। ২৪ এপ্রিল পাবনা সদরের দাপুনিয়া এলাকা থেকে এই পাখির ছবি তুলেছেন নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি ফটোগ্রাফার এহসান আলী বিশ্বাস। পাখিবিশারদরা জানান, দেশি শুমচা পাখির ইংরেজি নাম ইন্ডিয়ান পিট্টা। আর বৈজ্ঞানিক নাম পিট্টা ব্র্যাচইউরা। এরা পিটিডি গোত্রের এক ধরনের ছোট পাখি। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পিট্টার ছয়টি প্রজাতি রয়েছে।

 আর আমাদের দেশে রয়েছে পাঁচ প্রজাতি। এর মধ্য তিন প্রজাতি আমাদের আবাসিক। তবে ইন্ডিয়ান দেশি শুমচার একটিই প্রজাতি। এই পাখির শরীরে কয়েক রঙের মিশ্রণ রয়েছে। অঞ্চলভেদে এরা  নওরঙ, নীল পাখি, বনসুন্দরী, সাদা হালতি নামেও পরিচিত। এদের পেটের রঙ লাল। বুক সোনালি পীতাভ। আর পিঠে নীল-সবুজের মিশ্রণ। সাদা গলার ওপর চোখে কালো কাজলের দাগ। এরা গাছের মাঝামাঝি অংশে বাসা বাঁধে। ডিম দেয় দুই থেকে তিনটি। সাধারণত মাটিতে, ঝোপে-জঙ্গলে বিচরণ করে কীট-পতঙ্গ জাতীয় খাবার খায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘দেশি শুমচার সংখ্যা এখনো ভালোই আছে। এরা আমাদের দেশে গ্রীষ্মের পরিযায়ী পাখি। মূলত এ সময় এরা দেশের মধ্য এবং পশ্চিম অঞ্চলে শালবন ও আশপাশ এলাকায় আসে। বর্ষা শেষে আবার চলে যায়। এদের প্রধান আবাসস্থল হলো শালবন। তাই এই পাখিকে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখতে হলে দেশের শালবন টিকিয়ে রাখতে হবে।’

এই বিভাগের আরও খবর