শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

চীনে করোনা সংক্রমণ হয়তো শুরু হয়েছিল দুই মাস আগেই : গবেষণা

প্রতিদিন ডেস্ক

যে ভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে, সেই নতুন করোনাভাইরাস হয়তো ২০১৯ সালের অক্টোবরেই চীনে ছড়াতে শুরু করেছিল বলে মনে করছেন গবেষকরা। সূত্র : বিবিসি।

খবরে বলা হয়, ওই বছর ডিসেম্বরে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানে এ ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছিল চীন সরকার। তবে তার দুই মাস আগেই এ ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় আভাস মিলেছে। পিএলওএস প্যাথোজেনস সাময়িকীতে গতকাল প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে বলা হয়, ২০১৯ সালের অক্টোবরের শুরু থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব  কেন্টের গবেষকরা কনজারভেশন বা সংরক্ষণ বিজ্ঞানের পদ্ধতি ব্যবহার করে এই হিসাব বের করেছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ভাইরাসটির উদ্ভবের তারিখ সম্ভবত ২০১৯ সালে ১৭ নভেম্বর এবং পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে  সেটি ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, চীনে সরকারিভাবে প্রথম কভিড-১৯ রোগীর তথ্য নথিভুক্ত করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। এই রোগের উৎপত্তিস্থল হিসেবে উহান শহরের হুয়ানান সি ফুড বাজারকে চিহ্নিত করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের গবেষকরা বলছেন, ওই সময়ের আগের সংক্রমণগুলোর ক্ষেত্রে হুয়ানানের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ওই বাজাওে পৌঁছানোর আগেই সার্স-সিওভি-২ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওই গবেষণায় যে নমুনাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে তা ২০২০ সালের মার্চে সিকোয়েন্স রিড আর্কাইভে (এসআরএ) জমা দেওয়া হয় এবং পরে চীনের অনুসন্ধানকারীদের অনুরোধে সেগুলো মুছে ফেলা হয়। চীনের অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছিলেন, সেগুলো হালনাগাদ করা হবে এবং আরেকটি আর্কাইভ জমা  দেওয়া হবে। সমালোচকরা বলছেন, এই তথ্য-উপাত্ত মুছে ফেলার ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, চীন কভিড-১৯ এর উৎপত্তি নিয়ে কিছু গোপন করার চেষ্টা করছে। সায়েন্টেফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা জেনোমিক তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার কওে দেখিয়েছেন, সার্স-সিওভি-২ ভাইরাস অন্য প্রাণীর তুলনায় মানুষের ফুসফুসে অনেক সহজে আক্রমণ করতে পারে। এটা থেকে বোঝা যায়, মানুষ যখন এ ভাইরাস শনাক্ত করল, তার আগেই তা মানবদেহে বাসা বাঁধার বিষয়ে মানিয়ে নিয়েছিল। গবেষণাপত্রে বলা হয়, এমনও সম্ভাবনা আছে যে, অন্য কোনো প্রাণী ভাইরাসটির মধ্যবর্তী বাহক হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। আবার কোনো পরীক্ষাগার থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা, সেই সম্ভাবনাও নাকচ করা যাচ্ছে না।

ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের গবেষণার ফলাফলের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র কিরবি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক স্টুয়ার্ট টারভিল বলেন, কভিড-১৯ এর উৎপত্তির বিষয়ে মজবুত একটি ধারণা  পেতে আরও সেরাম নমুনা দরকার।