শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুন, ২০২১ ২৩:৩৪

সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ আটকে আছে উচ্চ আদালতে

হোলি আর্টিজান হামলার পাঁচ বছর

আরাফাত মুন্না

Google News

রাজধানীর কূটনীতিকপাড়া গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার পাঁচ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এ ঘটনায় ২২ জনকে হত্যার দায়ে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদন্ড দেয় বিচারিক আদালত। এখন এই সাত জঙ্গির মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণ (ডেথ রেফারেন্স অনুমোদন) আটকে আছে হাই কোর্টে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বিচারিক আদালতের রায়ে আসামির মৃত্যুদন্ড হলে সেই মৃত্যুদন্ড কার্যকরের জন্য উচ্চ আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে তা উচ্চ আদালতে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে আইনে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) এ এম আমিন উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলে আমরা গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য আবেদন জানাব।’ তিনি বলেন, ‘এই মামলাটি দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। বিচারিক আদালত এ মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। উচ্চ আদালতেও যেন বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকে, আমরা সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাব।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিপত্র হাই কোর্টে আসার পর প্রধান বিচারপতির অনুমোদন নিয়ে পেপারবুক (রায়সহ মামলার সকল নথি-সংবলিত বই) তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। গত বছর এই পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলেও আসে। বাকি আনুষঙ্গিক কাজ শেষে শুনানির জন্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। নব্য জেএমবির সাত সদস্যকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৬(২)(অ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয় রায়ে। আরও দুটি ধারায় তাদের কয়েকজনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড। মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, আবদুস সবুর খান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়ে বিচারক তার রায়ে বলেন, হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্য দিয়ে আসামিরা ‘জঙ্গিবাদের উন্মত্ততা, নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ’ ঘটিয়েছে। সাজার ক্ষেত্রে তারা কোনো অনুকম্পা বা সহানুভূতি পেতে পারে না। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেওয়া হয়েছে রায়ে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশান-২-এ হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ হামলায় জঙ্গিরা হত্যা করেছিল ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে, যাদের মধ্যে নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয় ও তিনজন বাংলাদেশি। হামলার পরদিন ২ জুলাই সন্ত্রাস দমন আইনে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্ত করেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির। জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার হাসনাত রেজাউল করিম ও তাহমিদ হাসিব খানকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে আসামি করা হয়নি। হামলায় জড়িত মোট ২১ জনকে চিহ্নিত করা হলেও জীবিত আটজনকেই কেবল আসামি করা হয়। আট আসামির মধ্যে শরিফুল ও মামুনুর ছাড়া বাকি ছয় আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর এ মামলার অভিযোগ গঠন হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২১১ জনকে সাক্ষী করলেও ১১৩ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন ঠিক করে বিচারক। রায় হওয়া আট আসামি ছাড়া হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিরা হলেন- তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, সরোয়ার জাহান, তানভীর কাদেরী, বাশারুজ্জামান চকলেট, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান ও রায়হানুল কবির রায়হান। এরা সবাই অভিযানে নিহত হয়েছেন।