শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:৩৮

অষ্টম কলাম

প্রয়াণ দিবসে বিশ্বকবিকে স্মরণ

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

প্রয়াণ দিবসে বিশ্বকবিকে স্মরণ
Google News

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮০তম প্রয়াণ দিবস ছিল গতকাল ২২ শ্রাবণ। এ দিবসে আলোচনা, গান, কবিতা, নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে কবিগুরুকে স্মরণ করে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। করোনা সংক্রমণের কারণে সীমিত পরিসরে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবসের আয়োজন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি, ছায়ানট ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী পৃথক আয়োজনে স্মরণ করে কবিকে।

বাংলা একাডেমি : এদিন বিকালে বাংলা একাডেমির কবিগুরু স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এতে ‘পূর্ববঙ্গ থেকে বাংলাদেশ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন             অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল এবং অধ্যাপক অনীক মাহমুদ। ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’ শীর্ষক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অদিতি মহসিন এবং রবীন্দ্র কবিতা ‘অনুগ্রহ’-এর আবৃত্তি করেন রুবীনা আজাদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

কে এম খালিদ বলেন, আগস্ট বাঙালির শোকের মাস। বঙ্গবন্ধু সব সময় রবীন্দ্রসাহিত্যে মুক্তির দিশা খুঁজে পেয়েছেন এবং সেই মুক্তিমন্ত্র জাতির মুক্তির সংগ্রামে কাজে লাগিয়েছেন। সেলিনা হোসেন বলেন, পূর্ববঙ্গ থেকে বাংলাদেশ দুজন মহান মানুষের সামনে ছিল স্বপ্নের ভূমি। তাঁরা পূর্ববঙ্গ আলোকিত করে নিজেদের প্রজ্ঞা ও জ্ঞান ছড়িয়েছেন বাঙালির মানব সচেতনতায়। উপহার দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙালি জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্বে। ১৯১৩ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ প্রদান করেন স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। এভাবে এ দুজনের মাধ্যমেই মূলত বাংলা-বাঙালির দিগ্দর্শন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের মানচিত্রে।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রজন্মশতবার্ষিকীতে পাকিস্তানি শাসক চক্রের চরম বৈরিতার মধ্যেও আমরা বাঙালিত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছি। আজও একটি মাঙ্গলিক সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু আমাদের চিরপ্রেরণার অনন্ত উৎস।

অনুষ্ঠানটি বাংলা একাডেমির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ছায়ানট : গানে গানে রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। বিকালে অনলাইনের এ আসর সাজানো হয় কবিগুরুর বিভিন্ন পর্বের গান দিয়ে। তবে বর্ষার গানই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আয়োজনের শুরুতেই মাকছুরা আখতার অন্তরা পরিবেশন করেন শ্রাবণদিনের গান ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল। এরপর ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ গেয়ে শোনান সৈকত মুখার্জি। ধারাবাহিক পরিবেশনায় একের পর কবিগুরুর গান নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে সাজিয়া হোসেন প্রৈতী পরিবেশন করেন ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা’, বিক্রম দাস গেয়ে শোনান ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে’, অসীম দত্তের কণ্ঠে গীত হয় ‘আমার প্রিয়ার ছায়া’, সাদিয়া সুলতানা দীনা পরিবেশন করেন ‘কোন্ পুরাতন প্রাণের টানে’, আবদুস সাত্তার পিনু গেয়ে শোনান ‘শ্রাবণের পবনে আকুল বিষণœ সন্ধ্যায়’, অভয়া দত্তের কণ্ঠে গীত হয় ‘আজ শ্রাবণের পূর্ণিমাতে’, এ টি এম জাহাঙ্গীর পরিবেশন করেন ‘সঘন গহন রাত্রি ঝরিছে শ্রাবণধারা’, মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা গেয়ে শোনান ‘যেতে দাও যেতে দাও গেল যারা’, সুকান্ত চক্রবর্তীর কণ্ঠে গীত হয় ‘আমি তখন ছিলেম মগন গহন’ ইত্যদি। আসরে শান্তিনিকেতন প্রবন্ধের অংশ থেকে পাঠ করেন জয়ন্ত রায়। সোনার তরী কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন হাসান আরিফ। ধরণির গগনের মিলনের ছন্দে গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন এলভিস মোস্তফা, ফুলেশ্বরী পারমিতা পুষ্প নোশিন আনজুম ও দীপান্বিতা আনজুম এবং ‘যায় দিন, শ্রাবণ দিন যায়’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন রিতু পাল ও সুপর্ণা লিমা। গান, কবিতা ও নৃত্যে অনলাইন আয়োজনে অনন্য হয়ে ওঠেন কবিগুরু।