সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

চাঁপাইর কাঁসার সুনাম বিশ্বব্যাপী

মো. রফিকুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইর কাঁসার সুনাম বিশ্বব্যাপী

আধুনিকতার জোয়ারের মধ্যেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা শিল্পের সুনাম বিশ্বব্যাপী। জনশ্রুতি রয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা পিতলের তৈরি পণ্য পাশের দেশ ভারত-নেপালের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ড্রইংরুমে শোভা পাচ্ছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মুঘল শাসনামলে এ দেশে কাঁসা-পিতলের ব্যবহার শুরু হয়। প্রথমে তারা কাঁসা-পিতল দিয়ে ঢাল-তলোয়ারের প্রচলন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে সৌখিন রাজা-বাদশাহরা কাঁসার বাসন-কোসনের ব্যবহার করতেন। তখন থেকেই এই শিল্পের ব্যবহার বেড়ে যায়। তৈরি হয় নতুন নতুন কারিগর। যার ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কাঁসা শিল্পের নাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। কালের আবর্তে কাঁসা-পিতলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং প্লাস্টিক, মেলামাইন, স্টেইনলেস স্টিল ও কাঁচের সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে যায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এখন কাঁসা-পিতলের সামগ্রী বেচাকেনা কমে যায়। তারপরও বিয়েশাদি, খৎনা বা নতুন সন্তান জন্ম হলে কাঁসা-পিতলের পণ্যের কদর আজও রয়েছে। কারণ এসব উৎসবে এখনো কাঁসার বাসন  উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। কাঁসা-পিতলের জিনিসপত্রের কারিগররা দুর্দিনের মধ্যেও বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রাখতে জেলায় প্রায় ৩০০ জন কারিগর সক্রিয় রয়েছেন। আগে প্রায় ১০ হাজার কারিগর ছিল। কাঁসার জিনিসপত্র তৈরির জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রামকৃষ্টপুর, শংকরবাটী, আজাইপুর ও রাজারামপুর এলাকা ছিল বিখ্যাত। এই কাঁসা শিল্পীরা নিপুণ হাতে তৈরি করতেন থালা, বাটি, গ্লাস, কলস, গামলা, বড় হাঁড়ি বা তামাড়ি, চামচ, বালতি, ফুলদানি, কড়াই, হাঁড়ি-পাতিল, পিতলের ক্রেস্ট, স্কুলের ঘণ্টা, পানদানিসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী। এ ছাড়া কাঁসার থালায় ও ক্রেস্টের ওপর নিপুণ হাতে তৈরি ঐতিহাসিক সোনামসজিদ, মহানন্দা ব্রিজ ও আম বাগানের মনোরম দৃশ্য সবার নজর কাড়ে। আজাইপুরের কাঁসার কারিগর আবদুস সামাদ জানান, এখন জেলায় প্রায় ৩০টি কারখানা রয়েছে। অনুমোদন রয়েছে ২০-২৫ জন মহাজনের। ফলে তাদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে কাঁসা-পিতল কিনতে হচ্ছে।

রামকৃষ্টপুরের কাঁসার কারিগর ইসলাম জানান, তারা বংশানুক্রমকিভাবে প্রায় ৮৫ বছর ধরে কাঁসার কাজ করে এলেও অনুমোদন (কাঁসা বহনের অনুমতিপত্র) পাননি। পেয়েছেন কাঁসার একশ্রেণির মহাজনরা। একই এলাকার আরেক কাঁসার কারিগর আসলাম জানান, তার দাদা ও পিতা কাঁসার শিল্পের নিপুণ কারিগর ছিলেন। তিনি শতকষ্টেও বাপ-দাদার পেশা ছাড়তে পারেননি। বটতলাহাটের কাঁসার কারিগর সাদেক জানান, বর্তমানে বাজারে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে কাঁসার বাসন-কোসন বিক্রি হচ্ছে। পুরনো কাঁসা কেনা হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজি দরে। তিনি জানান, একজন কারিগর ২০০ টাকা কেজি দরে বাসন-কোসন তৈরির মজুরি পেয়ে থাকেন। এদিকে মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে আজও জেলার ঘরে ঘরে কাঁসার থালা-বাসনের ব্যবহার দেখা যায়।

সর্বশেষ খবর