রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ টা

ধান সংরক্ষণে নির্মাণ হবে ২০০ বিশেষায়িত সাইলো

প্রথম দফায় হবে ৩০টি

উবায়দুল্লাহ বাদল

খাদ্য নিরাপত্তা ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে ২০০ স্টিলের ‘মিনি পেডি সাইলো (ধান সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা)’ নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এসব সাইলোতে ভেজা ধান রাখলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা শুকিয়ে যাবে। প্রতিটি সাইলোতে ৫ হাজার টন করে ধান ২-৩ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। প্রথম দফায় পরীক্ষামূলকভাবে ৩০টি পেডি সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। শিগগিরই ১৭০টি সাইলো নির্মাণ করতে আরও একটি প্রকল্প নেওয়া হবে। বিশেষায়িত এসব সাইলো নির্মিত হলে চালের পাশাপাশি আরও ১০ লাখ টন ধান সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এই মুহূর্তে সরকারের ধান সংরক্ষণের কোনো গুদাম নেই। তবে সরকারি গুদামে বর্তমানে ২১ দশমিক ৮০ লাখ টন চাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে ও সঠিক পদ্ধতিতে ধান সংরক্ষণ করতে সারা দেশে স্টিলের বিশেষায়িত ২০০টি পেডি সাইলো নির্মাণ করা হবে। প্রথম দফায় ৩০টি সাইলো নির্মাণ করতে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। শিগগিরই বাকি ১৭০টি সাইলো নির্মাণ করতে নতুন করে আরও একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এগুলো নির্মিত হলে সারা দেশে ৩০ লাখ টন ধান-চাল সংরক্ষণ করা যাবে।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি হলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি। এ জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য সরবরাহ ও পুষ্টি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। বর্তমানে খাদ্য অধিদফতরের অধীন ছয়টি সাইলো, ১২টি সিএসডি (কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম), ৬৩৫টি এলএসডিতে (আঞ্চলিক খাদ্যগুদাম) খাদ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এসব গুদামে খাদ্যশস্যের মোট ধারণক্ষমতা ২১ দশমিক ৮০ লাখ টন। এসব গুদামে ধান সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। সে জন্য ধান সংরক্ষণে আরও ২০০টি স্টিলের বিশেষায়িত খাদ্যগুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১৪ মার্চ নওগাঁর রানীনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং কৃষকের সুবিধা বিবেচনা করে সারা দেশে ২০০ পেডি সাইলো নির্মাণ করবে সরকার। প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৫ হাজার টন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০টি পেডি সাইলোর অনুমোদন দিয়েছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বরিশাল, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ ও নওগাঁয় চারটি চালের সাইলো নির্মাণাধীন রয়েছে। এ ছাড়া মধুপুর, আশুগঞ্জ ও ময়মনসিংহে চাল ও গমের সাইলো নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব সাইলো সক্রিয় হলে সরকারের গুদামে ধারণক্ষমতা ৩০ লাখে উন্নীত হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১ হাজার ৪০০ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে ধান শুকানো, সংরক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ আধুনিক ধানের সাইলো নির্মাণ’ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি গত বছরের ৮ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, টাঙ্গাইল সদর, ফরিদপুর সদর, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, জামালপুরের মেলান্দহ, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সাইলো নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, নোয়াখালী সদর, কুমিল্লা সদর, দিনাজপুর সদর, বিরল, ঠাকুরগাঁও সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, লালমনিরহাটের হাতীবান্দা, নওগাঁর শিবপুর, রানীনগর, পাবনার ঈশ্বরদী, বগুড়ার শেরপুর, নন্দীগ্রামে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, সিলেটের কানাইঘাট, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, নড়াইল সদর, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া, ভোলার চরফ্যাশনকে প্রকল্প এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর