শিরোনাম
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

বায়ুদূষণের কারণে বজ্রপাত বাড়ছে : ড. গোলাম মোহাম্মদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বায়ুদূষণের কারণে বজ্রপাত বাড়ছে : ড. গোলাম মোহাম্মদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম মোহাম্মদ ভূইয়া বলেছেন, নানা কারণে বজ্রপাত বাড়ছে। বায়ুদূষণও তার একটি কারণ। দূষণের কারণে বায়ুতে কিছু পার্টিক্যাল জমে, যেগুলোকে বলা হয় অ্যারোসল। এগুলো বেশি জমলে মেঘে বেশি চার্জ জমা হয়। তখন বজ্রপাত বাড়ে। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিও বজ্রপাত বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। বায়ুদূষণের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে না পারলে বজ্রপাত কমবে না। বর্তমানে আমাদের জন্য জরুরি বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা। এজন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম পূর্বাভাস প্রদান এবং বজ্রপাতসহনশীল অবকাঠামো তৈরিতে জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, বড় বড় গাছপালা কেটে ফেলায় বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি বেড়েছে। কারণ ঘর্ষণের কারণে মেঘে চার্জ সৃষ্টি হয়। ধনাত্মক চার্জ ঋণাত্মক চার্জের সঙ্গে মিলে নিষ্ক্রিয় হতে চায়। পৃথিবী ঋণাত্মক চার্জযুক্ত। আকাশে ধনাত্মক চার্জ সৃষ্টি হলে সেটা পৃথিবীতে এসে নিষ্ক্রিয় হয়। আর বিদ্যুৎটা যখন আসবে সেটা সবচেয়ে কাছের জায়গায়, অর্থাৎ উঁচু জায়গায় পড়বে। আগে উঁচু গাছে পড়ে বিদ্যুৎ মাটিতে চলে যেত। উঁচু গাছ না থাকলে পানিতে পড়বে। কারণ পানি জমে থাকলে তাতে ঋণাত্মক চার্জ তৈরি হয়। বজ্রপাতে মিলিয়ন ভোল্টের স্পার্ক হয়। এ বিদ্যুতের ছিটেফোঁটাতেই মানুষ মারা যায়। মাঠের মধ্যে কিছুদূর পরপর বড় গাছ থাকলে অনেক মৃত্যু ঠেকানো যেত। যেহেতু সেটা নেই তাই বজ্রপাতপ্রবণ এলাকার কৃষিজমি বা জলাভূমিতে কিছুদূর পরপর উঁচু করে রড দিয়ে দিলে বজ্রপাতে মৃত্যু কমানো যায়। এ ছাড়া সব ভবনে বজ্রনিরোধক দণ্ড বসাতে হবে।

সর্বশেষ খবর