শিরোনাম
শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

এক যুগেও জানা যায়নি প্রবাসীর মৃত্যুর কারণ

মাহবুব মমতাজী

এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জানা যায়নি কুয়েত প্রবাসী আবদুল আলীর (৫২) মৃত্যুরহস্য। পাওয়া যায়নি ক্ষতিপূরণ। এমনকি দুই মাসের পাওনা বেতনও। নিহতের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। ২০১০ সালের ২৭ নভেম্বর কুয়েতের গিলিব আল-সুয়েখ এলাকায় তার মৃত্যু হয়। স্বজনরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আবদুল আলীর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। কারণ তার লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল এবং মুখের ডানপাশের দাঁত ভাঙা ছিল। তবে লাশের সঙ্গে দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর সঠিক কারণ উল্লেখ ছিল না এবং বিবেচনাধীন বলা ছিল।

জানা যায়, আবদুল আলীর মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর কুয়েতের জাতীয় দৈনিক আল-শাহিদ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আবদুল আলী দুই মাসের বেতন পাওনা ছিলেন। নিয়োগ কর্তার সঙ্গে বেতনের ব্যাপারে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আক্রমণের শিকার হন এবং পরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন। এ বিষয়ে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালককে দেওয়া এক চিঠিতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎকালীন প্রথম সচিব (শ্রম) কে এম আলী রেজা জানান, আবদুল আলীর মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তার কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তার কফিল কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। এ তথ্য জানতে পেরে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (কল্যাণ) বরাবর আবেদন করে স্বামীর মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের তদন্ত চেয়ে একটি আবেদন করেন কাওসারী বেগম। একই বছরের ১৫ মে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর আরেকটি আবেদন দেন। এরপর ২০১২ সালের ১৭ জুলাই কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিবকে (শ্রম) একটি চিঠি দেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উপপরিচালক (কল্যাণ) মুকতাদির আজিজ। ওই চিঠিতে তিনি আবদুল আলীর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু উদঘাটন হয়নি মৃত্যুরহস্য। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পায়নি কোনো ক্ষতিপূরণ। এরপর ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট বাবার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চেয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এবং ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর পৃথক পৃথক আবেদন করেন আবদুল আলীর ছেলে সেলিম। এরপরও পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা, কোনো কিছুই জানতে পারেননি সেলিম। এ বিষয়ে আবদুল আলীর ছেলে সেলিম এ প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ করে বলেন, আমার বাবা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর আমরা কোনো ক্ষতিপূরণ বা কোম্পানিতে তার পাওনা টাকাও পাইনি। আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন পার করছি। এর মধ্যে দেখলাম, ২০১১ সালে বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎকালীন প্রথম সচিব (শ্রম) চিঠিতে কফিলের যে মোবাইল নম্বরটি (৯৯০৫৬২৩১) উল্লেখ করেছেন, সেটি কফিলের ছিল না। সেটা ছিল তার চাচা আবদুল মান্নানের। তিনি ওই দেশে কর্মরত আছেন। এতেই বোঝা যায়, কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস তার বাবার মৃত্যুর ব্যাপারে সঠিক কোনো তথ্য দেয়নি।

 

সর্বশেষ খবর