‘হামে ৬ মাসের শিশুর অবস্থা গুরুতর, মায়ের কাছে টাকা নেই, জানেন না কী করবেন’ শীর্ষক একটি খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) বোর্ড অব ডিরেক্টরস কমিটির সম্মানিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘সুরভি’র অন্যতম সংগঠক ডা. জুবাইদা রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপরই নূর নাহার নামে ওই অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসা এবং পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’কে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শিশু নূর নাহারের মা স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেয় টিকার প্রয়োজনীয়তা ও করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কার্যক্রম।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বাংলাদেশের সেবাধর্মী ও মানবিক সংগঠনগুলোর মধ্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি উজ্জ্বল নাম। প্রয়াত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে ধারণ এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করার মহৎ উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেডআরএফ-এর কার্যক্রম স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, ত্রাণ, সচেতনতা এবং সামাজিক উন্নয়নের অঙ্গনে বহুমুখী প্রসারিত হয়েছে।
হামে আক্রান্ত প্রতিরোধে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে হামের লক্ষণ, টিকা দেওয়ার বয়স এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ-সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ঢাকার মিরপুর, ভাসানটেকসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এবং জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম চলছে। ডা. জুবাইদা রহমান হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে। হাম প্রতিরোধে টিকা নিশ্চিত করা এবং রোগ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে কাজ করছে সংগঠনটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের দেওয়া সচেতনতামূলক বার্তায় দেশে হাম সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং নানা জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে অভিভাবকদের সচেতন হয়ে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতনতামূলক প্রচারণায় আরও বলা হয়েছে, হাম হলে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া, শরীরে লাল র?্যাশ, খাবারে অরুচি, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া এবং হঠাৎ তীব্র জ্বর। শিশুকে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ এমআর টিকা দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রচারণায় আরও বলা হয়েছে, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া যাবে। শিশু সুস্থ থাকলে এবং গত ৩০ দিনের মধ্যে হাম না হয়ে থাকলে তাকে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা আগে কোনো টিকা নেয়নি, তাদেরও টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা রাখা, বেশি তরল ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং শ্বাসকষ্ট, খিচুনি বা চোখ-কানের জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।