চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজানে তিনটি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে হাটহাজারী ও রাউজানের সেন্টার দুটি নির্মাণের পর চালুই করা হয়নি। লোহাগাড়া সেন্টারটি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চালু করা হলেও সেটি বন্ধের উপক্রম। মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ট্রমা সেন্টারগুলো নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু অবহেলা ও সিদ্ধান্তহীনতায় সেন্টারগুলো চালু করা হয়নি। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় ২০১৩ সালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার’ নির্মিত হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভার কাচারি সড়কে প্রায় ১২ কোটি ব্যয়ে নির্মিত ‘হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার’ ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়। তা ছাড়া চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কের রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঢালারমুখ এলাকায় ২০১৩ সালের ১৭ অক্টোবর ১১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের (সিআইএমসি) যৌথ উদ্যোগে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটি চালু হয়। চালুর পর দৈনিক ৬০-৭০ জন রোগী চিকিৎসা ও ছোট অপারেশনও হয়। সিআইএমসির পক্ষ থেকে ৬ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রদান করা হয়। কিন্তু সরকারের সঙ্গে সিআইএমসির চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে একই পদ্ধতিতে সিআইএমসির উদ্যোগে হাটহাজারী ট্রমা সেন্টারটি চালুর কথা থাকলেও তা হয়নি। তা ছাড়া অবহেলায় বন্ধ পড়ে আছে রাউজানের ট্রমা সেন্টারটিও।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকের কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটি চালুর পর আহত রোগীরা ভালোই চিকিৎসা পাচ্ছিল। ওই সময় প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ করে সেন্টারটি চালু করা হয়। তখন সরকার দিয়েছিল ৭৯ লাখ টাকা। পরবর্তী অর্থবছরের বরাদ্দে বাকি টাকা সমন্বয় করার কথা। কিন্তু সরকার পরবর্তী সময়ের জন্য নতুন করে চুক্তি নবায়ন করছে না। ফলে কয়েক মাস পর এটি হয়তো বন্ধও হয়ে যাবে।