ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সাজিদ হাসান (২৮) নামের এক যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগী সাজিদের শ্বশুর মাসুম চৌধুরী শাহবাগ থানায় অপহরণ মামলা করেছেন। মামলার তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাজিদ হাসান ও তার এক বন্ধুকে ধরে এনে ঢাবির ভিসি চত্বরে আটকে রাখা হয়। পরে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তুলে সাজিদের পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ফোন পেয়ে ভুক্তভোগীর শ্বশুর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে শাহবাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় দুজন পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আটক অবস্থায় থাকা যুবকের পকেট থেকে আরেক যুবক ইয়াবা বের করছেন। এ ঘটনা কেন্দ্র করেই পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যার পড়াশোনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া পলাতকদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে ভুক্তভোগী সাজিদ হাসানের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হয়েছে দাবি করে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শাহবাগ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অপহরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এ বিষয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তারা গ্রেপ্তার হলে পুরো ঘটনা জানা যাবে। ঢাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা পরে জানতে পেরেছি। তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।