Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ মে, ২০১৯ ১৪:৪২

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে খুশি সোনাতলার ১৪০ ভূমিহীন পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে খুশি সোনাতলার ১৪০ ভূমিহীন পরিবার

বগুড়া ও জামালপুর জেলার সীমান্তবর্তী যমুনা নদীর মধ্যেবর্তী এলাকায় বেশ মনোরোম পরিবেশে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চরসরলিয়ার ১৪০ জন ভূমিহীন পরিবারের সদস্য মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া করার জন্য রাখা হয়নি কোন ব্যবস্থা। এমনকি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নেই কোনও নির্ধারিত খেলার মাঠ। তবে জায়গা ও ঘর পেয়ে বেজায় খুশি ওই ভুমিহীন পরিবারের সদস্যরা। তবে এখনও দেওয়া হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে রাতে থাকতে হয় ডাকাত আতঙ্কে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের চরসরলিয়া এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় বেশ মনোরম পরিবেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এবং সিভিআরপি প্রকল্পের অধীনে চরসরলিয়া মৌজার চরসরলিয়া এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে ওই গুচ্ছগ্রামটি।

ইতোমধ্যেই ওই গুচ্ছগ্রামের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আর সেই সঙ্গে ১৪০ ভূমিহীন পরিবার খুঁজে পেয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই।

প্রায় ৫ একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ওই গুচ্ছগ্রামটি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এবং সিভিআরপি প্রকল্পের অধীনে চরসরলিয়ায় গুচ্ছগ্রাম-১ ও ২ নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

গত অর্থ বছরের  জুন মাস থেকে ওই গুচ্ছগ্রামের কাজ শুরু হয়। ওই গুচ্ছ গ্রামে ১৪০টি অসহায় ভূমিহীন পরিবার বসবাস করবে। প্রতিটি পরিবারের জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রতিটি পরিবারের জন্য বরাদ্দ থাকবে একটি করে ঘর, স্যানেটারি ল্যাট্রিন, বন্ধু চুলা (উন্নত চুলা)। পাশাপাশি থাকছে ফুল ও ফলের গাছের চারা। এছাড়াও ওই ভুমিহীন পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে থাকবে একটি সঞ্চয় সমিতি। 
গতকাল বুধবার সরজমিনের ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেই গুচ্ছগ্রামে ১৪০টি ভূমিহীন পরিবার মাথাগোঁজার ঠাঁই খুঁজে পেয়েছে। 

এ ব্যাপারে কথা হয় ওই গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ভূমিহীন আতাউর রহমান জানান, তাদের কোনও জায়গা জমি নেই। পার্শ্ববর্তী সরলিয়া, চরচুকাইনগর, খাবুলিয়া, পূর্বতেকানী, মহব্বতেরপাড়া ও মহেশপাড়া এলাকা থেকে এসে তারা ওই গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হয়েছে। ঘর বরাদ্দ নিতে কোনও টাকা পয়সা দিতে হয়নি বলেও তারা জানান। 

তবে শিশুদের জন্য লেখাপড়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। দিন শেষে রাত এলেই ডাকাত আতঙ্কে তাদের চোখে ঘুম আসে না বলে জানান। এছাড়াও গুচ্ছগ্রামবাসী নামাজের জন্য একটি মসজিদ ঘর নির্মাণের দাবি করেন।

এছাড়াও তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন যাবত তারা পাড়া-প্রতিবেশীর জায়গা জমিতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে নিয়ে বসবাস করতেন। এতে তাদের কোনও স্বাধীনতা ছিল না। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। বর্তমান সরকারের শাসনালে একটি করে ঘর পেয়ে মাথা গোঁজার ঠাই করতে পেরে তারা বেজায় খুশি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ইতোমধ্যেই সোনাতলা উপজেলার শিচারপাড়া ও চরসরলিয়া, পাকুল্লার সুজাইতপুর গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৫ শতাধিক ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছে। চরসরলিয়া গুচ্ছগ্রামটি খুব সুন্দর মনোরাম পরিবেশে অবস্থিত। চরসরলিয়ায় অবস্থিত গুচ্ছগ্রামটি বসবাসের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত। এখানে বসবাসকারী লোকজন মুক্ত আলো বাতাসে থাকার সুযোগ পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শফিকুর আলম জানান, গুচ্ছগ্রামের বাড়িঘরগুলো নির্মাণ হয়েছে বেশ সাজানো গোঁছানো ভাবে। ভূমিহীন শ্রেণির লোকজন বসবাস করবে খুব সুখ-স্বাচ্ছন্দে। গরু-ছাগল, হাঁস মুরগি, মাছ চাষ করে মানুষ স্বাবলম্বী হবে। ভ্রমণ পিপাসু লোকজন এলাকাটি ভ্রমন করতে ইচ্ছাপোষন করবে। তিনি আরও পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ ও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।

এছাড়াও তিনি আরও জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা ছাড়াও স্কুলের চাহিদা পাওয়া গেলে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, যমুনা ও বাঙালী নদীর মধ্যবর্তী এলাকার লোকজনগুলো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবে বসবাসের জন্য চরসরলিয়া এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে গুচ্ছগ্রামটি।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য