শিরোনাম
প্রকাশ : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:১১

১৭ বাংলাদেশি জেলেকে হস্তান্তর করল মিয়ানমার

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

১৭ বাংলাদেশি জেলেকে হস্তান্তর করল মিয়ানমার

মিয়ানমারের সমুদ্রসীমানায় ঢুকে পড়ায় আটককৃত ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে ফিশিং বোটসহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বঙ্গোপসাগরে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জেলেদের হস্তান্তর করা হয়।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ সিজিএস তাজউদ্দিনের কমান্ডার (বিএন) এসএম মিজবাহ উদ্দিন।

উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন, ভোলার কুলাকুপার এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের ছেলে মো. আল আমিন, একই জেলার চারখলিফা এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম, উত্তর মাদ্রাজ এলাকার নুর মোহাম্মদ পাটুয়ারির ছেলে মো. জসিম, পশ্চিম এওয়াজ পুর এলাকার মৃত খুরশেদ আলম সওদাগরের ছেলে মোহাম্মদ কামাল, নুরবাদ এলাকার মৃত আবুল লতিফ ব্যাপারীর ছেলে আবুল কালাম, নীল কমল এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে বেলাল হোসেন, একই এলাকার মৃত নজির আহাম্মদের ছেলে মোতাহার মিয়া, চূনাবাদ এলাকার মো. মিলনের ছেলে জাকির হোসেন, চট্টগ্রামের লাউরখীল এলাকার মৃত সুলেমানের ছেলে মো. জসিম এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. শাহ আলম, ভোলার পশ্চিম মাদ্রাজ এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. নুরুল ইসলাম, খন্দকার বাড়ির আব্দুল্লাহর ছেলে আবুল কালাম, মকবুল আহাম্মদের ছেলে মো. নেছার, চর নুরুল আমিন এলাকার মৃত নজির আহাম্মদের ছেলে মো. ফারুক ও একই এলাকার আব্দুল বারেক চৌকিদারের ছেলে মো. সেলিম।

এছাড়া মুন্সীগঞ্জের চাষি বালিগুয়ান এলাকার মৃত জহির আলী দেওয়ানের ছেলে আবু সাইয়েদ ও ঝালকাঠির সুক্তাঘর এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. নুর জ্জামান।
 
এফবি গোলতাজ ফিশিং বোটের মাঝি মো. ফারুক বলেন, গত শনিবার রাতে বের হওয়ার পর দুইদিন সাগরে মাছ ধরি। 
পরে মাছ ধরা অবস্থায় বোটের ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে যায়। ফিশিং বোটটি বিকল হয়ে ভাসমান অবস্থায় মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে পড়লে সেদেশের নৌবাহিনী আমাদের আটক করে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সিটওয়ের কনস্যুলেট হেড অব মিশন মো. বারিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি একটি ফিশিং বোট ইঞ্জিন বিকল হয়ে মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে পড়লে টহলরত সেদেশের নৌবাহিনী তাদের আটক করে। এবং ফিশিং বোটটি জব্দ করে। এ খবর পেয়ে দূতাবাসের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর তাজউদ্দিন জাহাজের সমন্বয়ে আটক জেলেদের ফিশিং বোটসহ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর তাজউদ্দিন জাহাজের কমান্ডার এসএম মিজবাহ উদ্দিন বলেন, এফবি গোলতাজ-৪ (এফ-৬০৭৯) নামে বাংলাদেশি একটি ফিশিং ট্রলার গত ২৯ নভেম্বর মাছ ধরার উদ্দেশে চট্টগ্রামের চাক্তাইখাল থেকে গভীর বঙ্গোপসাগরে যাত্রা করে। যাত্রার দুইদিন পর ৩০ নভেম্বর ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ট্রলারটি মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে পড়লে দেশটির নৌবাহিনীর জাহাজ কর্তৃক বাংলাদেশে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ দিকে মিয়ানমারের জলসীমানায় বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। 

পরে উদ্ধারের খবর পেয়ে সিট্যুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটর বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে অবহিত করেন। জোনাল কমান্ডার পূর্ব জোন কোস্টগার্ডের সদর হতে তথ্য প্রাপ্তির সাপেক্ষে বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে বাংলাদেশের জলসীমানায় টহলরত কোস্টগার্ড জাহাজ তাজউদ্দিনকে ট্রলারটি নিরাপদে বাংলাদেশে জলসীমানায় আনার নির্দেশনা প্রদান করে। 

পরবর্তীতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জাহাজ তাজউদ্দিন বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক জলসীমার শূণ্য রেখার নিকটবর্তী স্থানে গতিতে পৌঁছে ১৭ জেলেসহ বাংলাদেশি ফিশিং ট্রলার গোলতাজ-৪ (এফ-৬০৭৯)কে উদ্ধার করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিকটে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তী কার্যক্রম শেষে সেন্টমার্টিন পুুুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হবে।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য